এনসিটি ইজারা: সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি
“এই এনসিটির টাকা দিয়ে পায়রা হয়, বে টার্মিনাল হয়, মাতারবাড়ি হয়, পানগাঁও হয়। এটা তো দুধেল গাই। এটা কেন কেটে খাব আমরা।”
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।
বন্দর ভবনের সামনের সড়কে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয় সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে
বন্দরের এনসিটি পরিচালনার ভার আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদন দেওয়ার ঘোষণা আসার পর এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সরকারকে উদ্দেশ্য করে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “ক্ষমতায় এসেই যদি আপনারা শ্রমিকের বিরুদ্ধে যান, বন্দর দিতে শুরু করেন, এনসিটি দিতে শুরু করেন তখন আমাদের কষ্ট হয়।
“এই এনসিটির টাকা দিয়ে পায়রা হয়, বে টার্মিনাল হয়, মাতারবাড়ি হয়, পানগাঁও হয়। এটা তো দুধেল গাই। এটা কেন কেটে খাব আমরা। আমরা চাইনা বন্দর, এনসিটি, সিসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া হোক। এই দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি।”
তিনি বলেন, “এর আগের সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের কথা শুনতে বাধ্য হয়েছে। এরকম আন্দোলন গড়ে তুলব আমরা। জনগণ আমাদের পক্ষে আছে। জাতীয় স্বার্থ ক্ষুন্ন হতে দিতে আমরা পারি না।
“যাকে দিচ্ছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড, তার রেকর্ড ভালো না। জিবুতিতে তাকে ফেরত দিয়েছে, ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকান লবির সাথে তার সম্পর্ক। ফলে আমাদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির খাতিরে যে এনসিটি লাভজনক সেটা কেন বিদেশিদের দিতে হবে, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।”
সোমবার অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, জাতীয়াতবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু, স্কপ নেতা ইফতেখার কামাল খানসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
আন্দোলনের মধ্যেই ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটরদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটির দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে।
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব কোন বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হয়েছে, সেটি বলা হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে। তবে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে শুরু থেকে।
গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এনসিটি ইজারা বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় সরকার।
এর আগে এই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েও শেষ সময়ে স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার।
সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।
বন্দর চেয়ারম্যানও জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে আলোচনায় দেশের স্বার্থে ‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’।
তবে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ নেতারা বলছেন, বহুজাতিক কোম্পানিকে ইজারা দিলে সরকার আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে এবং ‘কনসেশন’চুক্তির কারণে বিপজ্জনক পণ্য খালাসেরও আশঙ্কা রয়েছে।
