Published : 29 Dec 2023, 07:42 AM
চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জন্য ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দলের নেতারা। দুই পক্ষই বলছে, দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগ তাদের পক্ষে।
কয়েকটি সংসদীয় এলাকায় দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা এবং অভিযোগও করা হয়েছে।
তৃণমূলের এই রেষারেষি দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মনে করছেন নেতাদের কেউ কেউ।
বিএনপি-জামায়াত ও সমমনাদের বর্জনের এই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমিয়ে তুলতে আওয়ামী লীগ এবার যে কৌশল নিয়েছে, সেটি হলো নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের কেউ প্রার্থী হতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এক ধরনের উৎসাহও দেওয়া হয়েছে।
সারা দেশের তিনশ আসনের মধ্যে যেসব আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী কোনো নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন, সেসব আসনে ভোটারদের সম্পৃক্ততা দৃশ্যত বেশি, প্রচারও জমজমাট।
চট্টগ্রামেও একই চিত্র। যেসব আসনে আওয়ামী লীগের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেই, সেসব আসনে ভোটের প্রচারে উত্তাপ কম। যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে, সেখানে নানা সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত ভোটার ও সমর্থকরা।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দল থেকে সবাইকে নির্বাচন করতে বলেছে। যেহেতু দল ওপেন করেছে সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। যে যার যার মত পছন্দের প্রার্থীর জন্য কাজ করুক। কিন্তু সংঘাত করাটা ঠিক হচ্ছে না। এতে সংগঠনের শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। এতে সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হবে। কারণ, সংঘাতের রেশ দীর্ঘদিন থাকে।”
মীরসরাইয়ে রুহেল-গিয়াস মুখোমুখি
চট্টগ্রাম-১ আসনে সাতবারের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ভোটের লড়াইয়ে নেই এবার। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্যের জায়গায় নৌকা দেওয়া হয়েছে তার ছেলে মাহবুব উর রহমান রুহেলকে।
মনোনয়ন না পেয়ে ভোটের লড়াইয়ে আছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন। তার প্রতীক ঈগল।
আবু তোরাব এলাকার বাসিন্দা ভোটার সোহাগ হোসেন বলেন, “এবার ভোট জমজমাট হবে মনে হচ্ছে। নৌকা ও ঈগল দুই প্রার্থীরই সমর্থক আছে।”
গিয়াস উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যদিও আমার মার্কা ঈগল, আমিও কিন্তু নৌকার মানুষ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী। আমি জয়ী হলেও নৌকারই জয়।”

তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে আমি শ্রদ্ধা করি। উনি ত্যাগী। কিন্তু বাবার ত্যাগ ছেলের সঙ্গে যোগ হবে না। উনি উনার মত এগিয়ে যাক। আমি চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যত বেশি শান্তিপূর্ণ হবে, তত বেশি ভোট পড়বে, তত বড় ব্যবধানে আমি জয়ী হব।”

নৌকার প্রার্থী রুহেলও জয় দেখছেন। তিনি বলেন, “প্রচারে গিয়ে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। অনেক লোকজন আসছে। উঠান বৈঠক হচ্ছে প্রতিটি গ্রামে।
“জয়ের বিষয়ে আমি সুনিশ্চিত। আমার বাবা এলাকায় ৫৪ বছর ধরে কাজ করেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সবাই আমাদের সঙ্গে আছে। সংগঠনের তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশক ধরে আমি কাজ করছি।”
ফটিকছড়িতে সনি-তৈয়বের লড়াই
চট্টগ্রাম-২ আসনটি দুইবার জোটের শরিক তরীকত ফেডারেশনকে ছাড় দিলেও এবার নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি।

আওয়ামী লীগের ছাড়ে দুইবার সংসদ সদস্য হওয়া তরীকত নেতা সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ছাড়াও আসনটিতে প্রার্থী হয়েছেন নতুন নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ।
তবে সনির সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব। তিনিও আওয়ামী লীগেরই নেতা।
সনি ও তৈয়বকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৃণমূলে বিভক্তি দেখা যাচ্ছে।

তৈয়ব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি জীবন বাজি রেখে আওয়ামী লীগ করেছি, তৃণমূল থেকে গড়ে উঠেছি। ফটিকছড়ি অনেক অবহেলিত। নির্বাচিত হলে ফটিকছড়ির মানুষের জন্য উন্নয়ন করব। জনগণ ভোট দিলে আমি জয়ী হব।”
আওয়ামী লীগের প্রার্থী সনি বলেন, “স্থানীয় আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে আছে। বিজয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। ভোটাররা আমার সঙ্গে আছে।”
সন্দ্বীপে মিতার চ্যালেঞ্জে জামাল
চট্টগ্রাম-৩ আসনে টানা দুইবারের সংসদ সদস্য নৌকার মাহফুজুর রহমান মিতার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরী।
সন্দ্বীপের বাসিন্দা মো. শামসুদ্দিন বলেন, “এবার ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুই প্রার্থীর প্রচারেই লোকজন অংশ নিচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ আছে।”

দুই পক্ষের মধ্যে চারটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনায় নৌকা ও ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি।
জামাল উদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নৌকার প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন তিনি হেরে যাবেন। তাই ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে হামলা করছে।
“২০০৮ সালে তিনিও (মিতা) স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। আমি নৌকার প্রার্থী ছিলাম। এবার প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমিও আওয়ামী লীগের প্রার্থী।”

নৌকার প্রার্থী মাহফুজুর মিতা বলেন, “সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত। এখানে যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে আমি শতভাগ আশাবাদী জয়ী হব। তিনি (জামাল উদ্দিন) ঢাকায় রাজনীতি করেন। এখানে দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে কোনো বিভক্তি নেই।”
ডবলমুরিং-পাহাড়তলিতে ‘ত্রিপক্ষীয় লড়াই’
চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক নগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম ফুলকপি এবং নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ লড়ছেন কেটলি নিয়ে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা বাচ্চুর সঙ্গে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

আমবাগান এলাকার ভোটার শরিফুল আলম বলেন, “জোর প্রচার চলছে। একেক সময় একেক প্রার্থীর লোকজন আসছে। এখানে ভোট জমবে। আওয়ামী লীগের দু’জন হওয়ায় দলের ভোট ভাগ হবে বলে মনে হচ্ছে।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ঘরে ঘরে যাচ্ছি। তবে কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে। আমবাগান, আকবর শাহ, মেয়র গলি, ২ নম্বর গেট, তুলাতলি ও পলিটেকনিক এলাকায় আমার ব্যানার পোস্টার কেটে ফেলেছে। কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে দলীয় প্রার্থীর লোকজন।”

তবে নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আমি বাধা মনে করছি না। শান্তিপূর্ণভাবেই প্রচার চলছে। কিছু বিষয় আছে যা এখন বলতে চাই না। আশা করি সব বাধা অতিক্রম করতে পারব। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।”
বন্দর-পতেঙ্গায় লতিফ-সুমনের লড়াই জমবে?
চট্টগ্রাম-১১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ লতিফ বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক সুমনের পক্ষ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের একটি পক্ষ।
দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পরদিন ২৭ নভেম্বর সুমনের পক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।

সুমনর মার্কা কেটলি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এলাকার আপামর মানুষের সমর্থনও পাচ্ছি। তৃণমূল ও সাধারণ ভোটারগণই আমার শক্তি। ইনশাআল্লাহ জয় আমাদের হবেই।”

এম এ লতিফ অবশ্য সুমনকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যদি থাকতেন, তাহলে মানুষ সে লড়াই উপভোগ করত, আমিও করতাম।”
পটিয়ায় সামশুল-মোতাহেরুলে উত্তাপ
চট্টগ্রাম-১২ আসনে তিনবারের সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী। নৌকা পেয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। দুই পক্ষ এরই মধ্যে একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছে।

পটিয়ার ভোটার বিকাশ সরকার বলেন, “দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তাদের কারণে গ্রামে গ্রামে দলের মধ্যে দুই পক্ষ হয়ে গেছে। এটা নিয়ে উত্তেজনা আছে। সাধারণ মানুষ ভোটের আগ্রহের চেয়ে এখন একটু শঙ্কা আছে।”
মোতাহেরুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং জনপ্রতিনিধিরা সবাই আছেন। মুষ্টিমেয় কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাশে।”
সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি (সামশুল) গত তিনবারে এমন কিছু কাজ করেছেন যাতে পটিয়ার জনসাধারণ ক্ষুব্ধ। সে কারণে প্রচারে গেলে বিভিন্ন স্থানে উনাকে ও উনার অনুসারীদের ধাওয়া দিচ্ছে। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

সামশুল হক বলেন, “প্রচার শুরুর দিন থেকেই মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারী কিছু সন্ত্রাসী বাধা দিচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও বিষোদগার করে বক্তব্য দিচ্ছে।
“তবে আমি শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ করছি। সেখানে মানুষের ঢল দেখে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। আমাকে ঠেকাতে তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।”
চন্দনাইশে কী পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মোকাবিলায় আছেন উপজেলার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বার চৌধুরী।
নজরুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি দুবার এমপি ছিলাম। মানুষ আমার সঙ্গে আছে। স্বাধীনতার পর থেকে যত উন্নয়ন হয়েছে, আমার মেয়াদে তার চেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। আমি কোনো অন্যায়, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অনিয়ম করিনি। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিই আমার মূলধন।”

জব্বার চৌধুরী এক সময় ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে অলি আহমেদের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে এলডিপিতেও যান তার সঙ্গে। দলের মনোনয়নে দুই বার উপজেলা চেয়ারম্যানও হন। তবে ২০১৫ সালে সেই দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যোগ দেন আওয়ামী লীগে।
২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিয়ে জয়ী হোন। এবার সেই পদ ছেড়েই নেমেছেন সংসদ নির্বাচনে।

জব্বার চৌধুরী বলেন, “আমার সঙ্গে শুধু আওয়ামী লীগ না, সব দলের মানুষ আছে। যেখানেই যাচ্ছি হাজার হাজার মানুষ আমার পেছনে শামিল হচ্ছে।”
দোহাজারীর বাসিন্দা ছোটন চৌধুরী বলেন, “নজরুল ইসলাম চৌধুরী সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। জব্বার চৌধুরীও একাধিকবারের চেয়ারম্যান। দুজনেরই কর্মী সমর্থক আছে। ভোট জমজমাট হবে।”
সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে নদভী
চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি বরাবর আওয়ামী লীগের দুর্বল এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত ভোটে না আসার পর আসনটি দখলে নেয় ক্ষমতাসীন দল। সংসদ সদস্য হন আবু রেজা মো. নেজামুদ্দীন নদভী। গত নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখেন তিনি।
তবে এবার সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ মোতালেব এবার তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন।

সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশার বাসিন্দা সাইফুর রহমান সোহাগ ডটকমকে বলেন, “নৌকা ও ঈগলের প্রার্থীর পক্ষে এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শুধু মাঠ পর্যায়ের নেতারা নন সিনিয়র নেতারাও বিভক্ত। এমনকি জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরাও এই দুইজনের পক্ষে বিভক্ত হয়ে গেছে।”
মোতালেব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আওয়ামী লীগের লোকজন আমার সঙ্গেই আছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা আমার সঙ্গে প্রচার চালাচ্ছেন।”
নদভী প্রথম যখন নৌকা নিয়ে ভোটে দাঁড়ান, সে সময় তার বিরুদ্ধে জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। আওয়ামী লীগের অনেকে এখনও সেই অভিযোগ করে থাকেন।

নৌকা মার্কার প্রার্থী বলেন, “সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় অতীতে এক সময় অরাকজতা ছিল, এখন নেই। ১০ বছরে আমি এই এলাকাকে সেবা ও শান্তির জনপদ করেছি।
“আমার বিরুদ্ধে যিনি নিজেকে দলের প্রার্থী বলে প্রচার করছেন, তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। নৈতিকতা থাকলে তিনি সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করতেন।
“আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”
বাঁশখালীতে মোস্তাফিজকে মুজিবুরের চ্যালেঞ্জ
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী মনোনয়ন জমা দেওয়া দিন থেকেই সমালোচিত হচ্ছেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
এই সুযোগ লুফে নিতে চাইছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি এগিয়ে চলছেন ঈগল প্রতীক নিয়ে।

আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবীরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক। তবে মোস্তাফিজুরের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মুজিবুরকেই ভাবা হচ্ছে।
ভোটার তালেবুল ইসলাম বলেন, “এবার ভোটের লড়াই জমজমাট হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে বাঁশখালীতে কথার লড়াই অনেক সময় মারামারিতে রূপ নেয়। অতীতে এমন ঘটেছে। সেজন্য সাধারণ মানুষ একটু শঙ্কায় আছে।”
বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে মামলা করছে ইসি
মোস্তাফিজুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্বতন্ত্র মানে স্বতন্ত্র। আওয়ামী লীগের মানুষ হলে অবশ্যই নৌকায় ভোট দিতে হবে। আওয়ামী লীগের মানুষ হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে সেটা কী রকম আওয়ামী লীগ?”
মুজিবুর বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও উনার সমর্থকরা প্রচারে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে, যা কাম্য নয়। আমরা চাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট। তাহলে আমি জয়ী হব।”