চট্টগ্রামে বিচারকের এজলাসে জুতা ছুড়লেন আসামি

মনির খান মাইকেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া এক মামলার আসামি।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2023, 01:38 PM
Updated : 28 Nov 2023, 01:38 PM

চট্টগ্রামের আদালতে এক বিচারকের এজলাস লক্ষ্য করে আসামির জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনা ঘটে।

এরপর মনির খান মাইকেল (৩২) নামের ওই আসামিকে পুলিশ আদালত কক্ষ থেকে সরিয়ে নেয়।

দুই বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া এক মামলার আসামি মনির খান মাইকেল। মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির ধার্য দিন ছিল। পাশাপাশি আসামির পক্ষে জামিন আবেদনও করা হয়।

চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসামি মনির খান কাঠগড়ায় ছিল। আমরাও এজলাসের সামনে ছিলাম। আসামির পাশে পুলিশ ছিল। যখন বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির (জেলা ও দায়রা জজ) এজলাসে আসেন আমরা সবাই দাঁড়াই।

“এরপর বিচারক চেয়ারে বসার সময় আসামি মনির খান কেন তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না এ কথা বলে, গালি দিয়ে এজলাস লক্ষ্য করে পরপর ‍দুটি জুতা ছুড়ে মারেন। এর আগেই বিচারক চেয়ারে বসেন। জুতা দুটি মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। এরপর পুলিশ আসামিকে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদালত পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। মামলা হলে তখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, কেন জুতা নিক্ষেপ করেছে জানতে।”

আসামি মনির খান মাইকেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার গোকর্ন গ্রামের গোলাপ খাঁর ছেলে।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে মনির খানের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দুটি লাইভ ভিডিও শেয়ার করা হয়। দুটি ভিডিওতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য বদরুদ্দোজা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন সংগ্রামসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগের নেতৃত্ব ও পুলিশকে গালিগালাজ ও মানহানিকর তথ্য এবং হুমকি দেয়া হয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ২২ জানুয়ারি পুলিশ নাসিরনগর থানায় মনির খানের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর ওই বছরের ২০ জুন তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মনির খান কুমিল্লায় ফেরী করে পণ্য বিক্রি করেন। এলাকায় তিনি বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত।