১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহ থেকে খুন হন রাউজানের করিম: পুলিশ

চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বলছে, তারা হত্যাকাণ্ডে ‘সরাসরি’ সম্পৃক্ত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 07:45 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

দিন দশেক আগে চট্টগ্রামের রাউজানে করিম নামে যে ব্যক্তিকে গুলি করে ও ‍কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল, তাকে মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহে মেরে ফেলা হয় বলে ভাষ্য পুলিশের।

রোববার রাতে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ এ কথা বলছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৭) ও মো. আলামিন (২৯)।  

পুলিশের ভাষ্য, এ চারজন হত্যাকাণ্ডে ‘সরাসরি’ সম্পৃক্ত ছিলেন। 

সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের হোতা পারভেজ নামের এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতিসহ অন্তত ১৭টি মামলা আছে। 

আর নিহত করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক, ধর্ষণসহ অন্তত ১০টি মামলা আছে। 

তিনি বলেন, উরকিরচরের হারপাড়া এলাকায় করিমের বাড়ি হলেও থাকতেন হাটাহাজারীর আমান বাজার এলাকায়। মাঝেমধ্যে তিনি এলাকায় যেতেন। 

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজান উপজেলার উড়কিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয় করিম নামের এক যুবককে।

ঘটনার পর পুলিশ বলেছিল, সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে এসে দুর্বৃত্তরা করিমকে গুলি করে এবং কুপিয়ে করিমকে মেরে ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন নিহত করিমের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার বাদী হয়ে অচেনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি মামলা করেন। 

সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের আট থেকে দশ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের মোটরসাইকেল ‍চুরি হয়। এজন্য করিমকে সন্দেহ করে পারভেজ। কিন্তু বিষয়টি অস্বীকার করেন করিম। 

“পারভেজ ও করিমের আগের বিরোধ এবং সাথে মোটর সাইকেল চুরির বিষয়টি মিলে করিমকে হত্যা করা হয়।” 

পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন রাতে কৌশলে করিমকে বাজারে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে পাঁচ থেকে ছয় জন এসে প্রথমে করিমকে গুলি করে, পরে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। 

পুলিশ সুপার মাসুদ জানান, রোববার রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে রাউজান থানার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান চালিয়ে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এলজি, রক্তমাখা রাম চাপাতি, দেশীয় এক নলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

পরে হাটহাজারী থানার দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে সেলিম (৫০) ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাউজানে গুলি করে হত্যাবাজারে পড়ে আছে লাশ

রাউজানে হত্যাকাণ্ডএলাকায় থাকতেন না করিমদুই মাস পর এসে হলেন খুন