Published : 04 Sep 2026, 06:37 PM
চট্টগ্রামের রাউজানে খুন হওয়া মো. করিম এলাকায় থাকতেন না। দুই মাস পর এলাকায় ফিরে তিনি হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন এসে ৩৭ বছর বয়সি করিমকে ঘিরে ধরে কয়েকজন, তারপর কুপিয়ে ও গুলি করে তাকে হত্যা করে।
সুরতহাল প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, করিমের পিঠে ও কোমরে দুটি গুলি এবং মাথায় ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
করিমের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে অন্তত নয়টি মামলা থাকার তথ্য দিয়েছেন রাউজান থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম।
তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ওসি বলেন, “করিম এলাকায় থাকতেন না। প্রায় দুই মাস পর এসেছে। বাজারে যাওয়ার সাথে সাথে সিএনজি অটোরিকশা করে আসা কিছু সন্ত্রাসী তাকে খুন করে পালিয়ে যায়।”
এ ঘটনায় তার স্ত্রী বিলকিছ আক্তার বাদী হয়ে অচেনা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন বলে জানান ওসি সাইফুল।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ জানিয়েছিল, করিমকে খুন করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। পুলিশ গিয়ে সড়কে পড়ে থাকা লাশ উদ্ধার করেছে। বাজারের সকল দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা চলে যাওয়ায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শীকে পাননি তারা।
চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।”
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে সিএনজি অটোরিকশায় করে এসে কিছু সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়।”
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, করিম বেশ কিছুদিন প্রবাসে ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে আসেন। বিভিন্ন সময়ে নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। তাকে মিছিলে দেখা যেত এবং অপরাধমূলক কাজেও জড়িয়ে ছিলেন।
করিম নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কথা স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও সংগঠনের তরফে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজান সাহিল
বলেন, “নিহত করিম কখনও যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। সবাই তাকে যুবদল কর্মী বলায় বিষয়টি আমাদের বিব্রত করছে।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কোনো কারণে করিম খুন হননি। আমরা বিভিন্নভাবে শুনেছি তিনি মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন। মাদক কারবারীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তিনি খুন হয়েছেন।”
উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজমের ভাষ্য, “বিএনপি বড় দল। দলের কোনো অঙ্গ সংগঠনের মিছিলে একদিন গিয়ে কেউ যদি নিজেকে সংগঠনের কর্মী পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।
“করিমকে আমাদের কোনো কর্মসুচিতে দেখিনি এবং চিনি না।”
আগের খবর: