আইনজীবী আলিফের পরিবারের জন্য ‘কোটি টাকার তহবিল’
এর বাইরে দুটি সংগঠন দিয়েছে ছয় লাখ টাকা।
চট্টগ্রামে সংঘাতে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের পরিবার যেন অর্থকষ্টে না ভোগে, সে জন্য এক কোটি টাকার তহবিল করার কথা জানিয়ে এসেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। এর বাইরেও বিভিন্ন সংগঠন নানা সাহায্য সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা গ্রামে আলিফের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, “আমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন চ্যারিটি অর্গানাইজেশন থেকে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের পরিবারের জন্য কিছু সাহায্য নিয়ে এসেছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে ঘোষণা দিতে চাই, আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন সাহেব, আমি ওই ফাউন্ডেশনের অ্যাডভাইজার, আমরা সাইফুল ইসলাম সাহেবের ছোট বাচ্চা, তার স্ত্রী, মা বাবা, পরিবার পরিজনের ভরণ পোষণ, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য আমরা এক কোটি টাকার একটা ফান্ড তৈরি করছি।
“আজকে আমি এটার একটা অংশ এক লক্ষ টাকা উনাদের পরিবারের হাতে দিব। আগামী মাসে এসে আরেকটা ইন্সটলমেন্ট দিয়ে যাব।”
খালিদ হোসেন বলেন, “কীভাবে এই পরিবারটা স্বচ্ছলভাবে চলতে পারে, তারা যাতে আর্থিক অসঙ্গতিতে না পরে এ ব্যাপারে আমরা সচেতন। এছাড়া আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের শেখ আহমদুল্লাহ সাহেব আমাদেরকে পাঁচ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছেন। এটাও আমরা উনার পরিবারকে দিব।
“আল মানাহিল ফাউন্ডেশন, আমি উনাদেরকে রিকোয়েস্ট করেছি, উনারাও এক লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন। এই সাত লক্ষ টাকা চেক এবং নগদে আজ দিব। আর এক কোটি টাকার ফান্ড আমার রেইজ করছি। ইতোমধ্যে আমাদের ফান্ডে বেশ কিছু টাকা জমা হয়েছে। এগুলো আমরা উনার বাবা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলে একটা অ্যাকাউন্টে রেখে তারা যাতে বাকি জীবনটা স্বচ্ছন্দে চলতে পারে এর ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।”
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের যারা হত্যাকারী তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। সেটা ব্যক্তি হোক, সংগঠন হোক, তদন্ত চলছে।
“এবং ভিডিও ফুটেজ আছে। ফুটেজের মাধ্যমে আমাদের চৌকস তদন্ত দল এবং ইন্টেলিজেন্ট এজেন্সিস এবং ল এনফোর্স এজেন্সিস, তারা কাজ করে যাচ্ছে। দোষী যেই প্রমাণিত হবে আমরা তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধান করব।”
সরকারকে বিব্রত করতে দেশে বিদেশে একটা গোষ্ঠী তৎপর বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমাদের অভ্যন্তরীণ সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, শান্তি, শৃঙ্খলা যাতে বিনষ্ট না হয়, এর জন্য আমাদেরকে অত্যন্ত সজাগ এবং সচেতন থাকতে হবে।
“এই ঘটনার পর আপনারা যেভাবে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, আপনাদের আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই। আগামী দিনেও আপনাদের সম্প্রীতি সৌহার্দ্য রক্ষার জন্য আমাদের এভাবে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।”
‘যেন ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়’
ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রায় পোদ্দারও। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর যে এ বিষয়টার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হয়ে সুষ্ঠু বিচার হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি পাবে। এ বিষয়ে সবাই নিশ্চিত থাকতে পারেন।”
শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেন এ বিষয়টাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রকম উসকানিমূলক ঘটনা না ঘটে এবং বিদেশে ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়। যেন আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে সব বিপদ মোকাবিলা করতে পারি, আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারি।”
সংহতি বজায় রাখলে কেউ কিছু করতে পারবে না মন্তব্য করে উপদেষ্টা বিধান রায় বলেন, “আমাদের এই ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ ভাই ভাইয়ের মত বসবাস করে আসছে।
“আমরা সম্প্রীতি বজায় রাখব, সংহতি বজায় রাখব। তাহলে শত্রুরা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না আমাদের।”
পরে দুই উপদেষ্টা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
গত সোমবার ঢাকায় আটকের পর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয় চিন্ময়কে। তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন।
আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
