Published : 28 Oct 2025, 07:40 PM
হালদা নদী রক্ষায় গেজেট পরিবর্তন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেছেন, “গেজেট পরিবর্তন না হওয়ায় হালদা নদীর উন্নয়নমূলক অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই হালদা নদী রক্ষায় গেজেট পরিবর্তন করা হবে।
“হালদা নদী রক্ষায় গেজেট সংশোধনের মাধ্যমে তামাক চাষ ও নদী দূষণ বন্ধ করা হবে।”
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মৎস্য হেরিটেজ বাস্তবায়ন তদারকি কমিটির ১৫তম সভায় কথা বলছিলেন এ উপদেষ্টা।
খাগড়াছড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মদুনাঘাটের কাছে কর্ণফুলী নদীতে মিশে গেছে হালদা নদী। এ নদী থেকে বর্ষা মৌসুমে কার্প জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা ডলফিনেরও বিচরণ ক্ষেত্র।
কিন্তু দূষণ, নদীর সঙ্গে যুক্ত খালে বর্জ্যের প্রাদুর্ভাব, নদী তীরের জমিতে তামাক চাষ, সেচের জন্য নির্মিত বাঁধ, মাছ শিকার, নদীর বাঁক কেটে কুম বিলুপ্ত করা এবং ড্রেজার ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচলসহ নানা কারণে হালদায় মাছ ও ডলফিনের জীবন বিপন্ন হয় প্রায়ই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক মনজুরুল কিবরীয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গেজেটে হালদা নদীর সীমানা বলা হয়েছে নগরীর পাঁচলাইশ পর্যন্ত। অথচ এ পর্যন্ত নদী নেই।
“গেজেটে তামাক চাষ বন্ধের বিষয়ে উল্লেখ নেই। নদীর বাঁক কাটা বন্ধ করাসহ প্রায় ১০-১২ টি বিষয়ে চারবার আপত্তি দিয়েছে। গেজেট সংশোধন না হলে অনেক কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশোধন হলে এসব বিষয়ে উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”
মঙ্গলবারের সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “হালদা নদী উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে একযোগে ও সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য আজকের সভা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে।
“প্রয়োজনে হালদা নদী রক্ষায় ডিপিপি ও চলমান প্রকল্পের বাইরে থেকেও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে গবেষণা করতে হবে।”
তামাক চাষ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “এ কারণে হালদা নদীর তীরবর্তী ভূমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, যা নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।”
সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবি এম ইফতেখারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন, মৎস্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমও সভায় উপস্থিত ছিলেন।