পুলিশি নিরাপত্তায় বিকাল থেকে চলবে চবির শাটল ট্রেন

বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Feb 2024, 01:32 PM
Updated : 9 Feb 2024, 01:32 PM

লোকোমাস্টারদের নিরাপত্তায় পুলিশি পাহারার শর্তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চালাতে রাজি হয়েছেন চালকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নুরুল আজিম সিকদার জানিয়েছেন, রোববার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টারদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা নিরাপত্তার জন্য পুলিশি প্রহরা চেয়েছেন।

“এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সিসি ক্যামরা বসানোর দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টারদের লাঞ্ছিত করার বিচার চেয়েছেন। সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

প্রক্টর নুরুল আজিম সিকদার বলেন, “নিরাপত্তার জন্য প্রতি ট্রেনে চারজন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন। জিআরপি সে ব্যবস্থা করবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

“সিসি ক্যামরা বসানোর বিষয়ে পরে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আজ বিকেল থেকে শাটল চালাতে তারা সম্মত হয়েছেন।”

বৈঠকে শাটল ট্রেনের ছাদে বা ইঞ্জিনে শিক্ষার্থীদের না উঠতে সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে দাবি তোলেন ট্রেন পরিচালনাকারী লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টাররা।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন চৌধুরীহাট স্টেশনের কাছে পৌঁছালে সেখানে একটি ভেঙে পড়া গাছের সাথে ধাক্কা খায় ট্রেনের ছাদে থাকা শিক্ষার্থীরা। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহত ৯ জনকে সেদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাটল ট্রেনে দুর্ঘটনার পর লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকো মাস্টারকে লাঞ্ছিত করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখানেই ট্রেন রেখে চলে যান তারা। পরে নিরাপত্তার দাবিতে শুক্র ও শনিবার আর ট্রেন চালাননি চালকরা।

এ পরিস্থিতিতে রোববার সকালে শিক্ষার্থীদের শহর থেকে ক্যাম্পাসে আনতে আটটি বাস দেওয়া হয়। শাটল ট্রেন না চললেও রোববার দুপুর পর্যন্ত নির্ধারিত পরীক্ষা ও ক্লাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সহপাঠীরা আহত হওয়ার পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের একটি অংশ উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে ভাংচুর চালায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরে গিয়ে সেখানে থাকা শিক্ষকদের বেশ কয়েকটি বাস ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি দল।

এরপর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবেও হামলা চালায়। সেখানে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। সেখানে থাকা শিক্ষকরা একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। বিক্ষোভ ও ভাংচুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য।

এসব ঘটনায় শনিবার হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)