Published : 04 Sep 2024, 08:12 PM
গণআন্দোলনে সরকার পতনের আগে-পরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় আক্রমণ চালিয়ে লুটপাট করা দুইশ অস্ত্রের খোঁজ মিলছে না।
পাশাপাশি থানায় জমা রাখা ও উদ্ধার করা অবৈধ অস্ত্রগুলোরও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার দিন গত ৫ অগাস্ট দেশের বিভিন্ন জায়গার মত চট্টগ্রাম পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা হয়। আগুন দেওয়া হয় কোতোয়ালী, পাহাড়তলী, পতেঙ্গা ও ইপিজেড থানায়। লুটপাট করা হয় অস্ত্র ও মালখানা।
এর মধ্যে কোতোয়ালী ও পাহাড়তলী থানা ভবনের অবকাঠামো ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। পতেঙ্গা ও ইপিজেড থানা একেবারেই ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে আকবরশাহ, সদরঘাট, হালিশহর থানায়ও হামলা-ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নগরীর ১৬টি থানার মধ্যে ছয়টি থানার অস্ত্র লুট হয়। থানাগুলোর নথিপত্র জ্বালিয়ে দেওয়ায় সেখান থেকে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি।”
কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারের হিসাবে ছয়টি থানার বিভিন্ন ধরনের মোট ৮১৫টি অস্ত্র লুটের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৬১৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র বিভিন্ন ব্যক্তিরা এসে ফেরত দিয়েছেন।”
নাগালের বাইরে বিপুল অস্ত্র-গুলি, রাত থেকেই যৌথ অভিযান
চট্টগ্রামে লুট হওয়া ৩ অস্ত্র উদ্ধার
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে, গেল জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন-বিক্ষোভের সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশের মোট ৫ হাজার ৮২৯টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে লুট হওয়া ৬ লাখ ৬ হাজার ৭৪২টি গুলির মধ্যে এখনও উদ্ধার হয়নি ৩ লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি।
এসব অস্ত্র-গুলি ফেরত দিতে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার। পাশাপাশি গত সাড়ে ১৫ বছরে লাইসেন্স পাওয়া বেসামরিক ব্যক্তিদের সব ধরনের অস্ত্র জমা দিতেও এদিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।
খোয়া যাওয়া ও লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সারা দেশের মত চট্টগ্রামেও অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় হামলার পর নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলায় জমা রাখা এবং উদ্ধার করা অবৈধ অস্ত্রগুলোরও হদিস পাচ্ছে না পুলিশ।
তবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “অস্ত্র গায়েবের কোনো সুযোগ নেই। যারা থানায় অস্ত্র জমা রেখেছিলেন, তাদের কাছেও নথি থাকে। যার কারণে সেগুলোর পরিমাণও নির্ধারণ করা যাবে।”
লুট হওয়া অস্ত্রের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশ। তথ্য দাতাদের পরিচয় গোপন রাখার কথা বলা হয়েছে এতে।
লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেলে জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এবং সিএমপির নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৩২০০৫৭৯৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে।
অথবা সরাসরি উপ-কমিশনার (অপারেশন) ০১৩২০০৫২০৩৫, উপ-কমিশনার (উত্তর) ০১৩২০০৫২৪০০, উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) ০১৩২০০৫২৫৫০, উপ-কমিশনার (বন্দর) ০১৩২০০৫২৮৫০, গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) ০১৩২০০৫৪০৮০, উপ-কমিশনারের (বন্দর-পশ্চিম) ০১৩২০০৫৪১৬০ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
আরও পড়ুন-