Published : 27 Aug 2025, 01:29 AM
ক্রমবর্ধমান পানি সংকট নিরসনে ‘ওয়াটার গ্রিড’ স্থাপন ও কাপ্তাই লেক খননের দাবি উঠেছে চট্টগ্রামের এক আলোচনা সভায়।
বিশ্ব পানি সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার ‘ইন্টিগ্রেটেড সোশাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাফর্ট (আইএসডিই) বাংলাদেশ’ এর আয়োজনে পানি অধিকার প্রচারাভিযান, প্রাণ ও অ্যাকশনএইডের সহায়তায় এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসার কনফারেন্স রুমে ‘যথাযথ পানি ব্যবস্থাপনা- জলবায়ু সংকট মোকাবেলার হাতিয়ার’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভা হয়।
সভার বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, “কাপ্তাই লেক ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সেই ভরাট লেক কে ড্রেজিং করবে? আমরা এ বিষয়ে অনেকবার বলেছি, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কাপ্তাই লেককে আমাদের বাঁচাতেই হবে, নইলে পানি সংকট আরও প্রকট হবে।
“আমাদের মূল উৎস এখন কর্ণফুলী নদী, কিন্তু লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা। মেঘনা নদী থেকে পানি আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু খরচ অনেক বেশি- প্রতি কিউবিক মিটারে প্রায় ১৫০ টাকা। আবার সেই পানি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে সরবরাহ করলে ব্যয় আরও বাড়ে।”
মাকসুদ আলম বলেন, “নির্দিষ্ট এলাকায় পানি আনলে খরচ বেশি হলেও, যদি জাতীয় পর্যায়ে ওয়াটার গ্রিড করা যায়, তাহলে খরচ অনেকটাই কমে যাবে। ওয়াটার গ্রিড বাস্তবায়িত হলে সারাদেশের পানি সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমাদের পতেঙ্গায় জলরাশি আছে, কিন্তু সেই পানি আমরা নিতে পারছি না। চট্টগ্রাম ওয়াসার দায়িত্ব শুধু সুপেয় পানি সরবরাহ করা। ১৯৮৬ সালে একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দিয়ে শুরু হলেও এখন চারটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু রয়েছে।
“কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমরা প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি, তাই প্রকৃতি আমাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করছে। প্রতি ঘর বা ভবনে প্রাকৃতিক উপায়ে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে সিডিএ থেকে ভবন নির্মাণের সময় এটিকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। সেই পানি আবার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সরবরাহে কাজে লাগানো যাবে। একই সঙ্গে আমরা যে জলধারাগুলো ধ্বংস করছি, সেগুলো রক্ষা করতে হবে এবং মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।”
কনজ্যুরামস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন।
ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ আশরাফ হোসেন ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার ছিলেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেইলি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডস এর ব্যুরো প্রধান শামসুদ্দিন ইলিয়াছ। আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সের অধ্যাপক ড. খালেদ মিজবাহউজ্জমান, পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং দৈনিক দেশ রূপান্তরের ব্যুরো প্রধান ভুঁইয়া নজরুল।