Published : 03 Jan 2026, 04:36 PM
চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও মীর হেলালের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী হাকিম হেদায়েত উল্যাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে শনিবার চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড উপজেলা ও নগরীর ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) ও চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারী উপজেলা ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে ১০ প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এদিকে চট্টগ্রাম-৫ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ ছয় জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
একই আসনে জাতীয় পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী হাকিম হেদায়েত।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি’র সাবেক উপ কোষাধ্যক্ষ এসএম ফজলুল হক, সাবেক হুইপ প্রয়াত ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে সাকিলা ফারজানান ও মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দৈবচয়নের ভিত্তিতে এক শতাংশ ভোটার সংখ্যা সঠিক না হওয়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী হাকিম হেদায়েত।
আর দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় এসএম ফজলুল হক ও সাকিলা ফারজানান স্বতন্ত্র ভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর ৯, ১০ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। ওই সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন। এর মধ্যে সীতাকুণ্ড আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনকে।
ওইদিন সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার অনুসারীরা।
পরবর্তীতে আসলাম চৌধুরীকে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র দিয়ে কাজী সালাউদ্দিনকে বাদ দেয়া হয়।
২০১৬ সালে আসলামের সঙ্গে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি এন সাফাদির একটি ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। ওই বছরের ১৫ মে ঢাকার খিলখেত থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক আসলামকে।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ‘এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। পরে একে একে আরও অনেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে একের পর এক মামলা হয় তার নামে।
গেল বছরের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০ অগাস্ট জামিনে মুক্তি পান আসলাম চৌধুরী।