চট্টগ্রামে নালায় পড়লেন নারী, উদ্ধার করলেন পথচারীরা
ওই এলাকায় কয়েকদিন আগে নালার বর্জ্য পরিষ্কারের পর স্ল্যাব ঠিকভাবে বসানো হয়নি। এ কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে, বলছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকায় ফুটপাত ধরে হেঁটে যাবার সময় স্ল্যাব উল্টে নালায় পড়ে যান এক নারী। পরে স্থানীয়রা তাকে টেনে তোলে।
সোমবার বেলা ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে নালায় পড়ে যাওয়া নারীর পরিচয় জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) বলছে, ওই এলাকায় কয়েকদিন আগে নালার বর্জ্য পরিষ্কারের পর স্ল্যাব ঠিকভাবে বসানো হয়নি। এ কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুরাদপুরে ফুটপাত ধরে হেঁটে আসছিলেন এক নারী। ফুটপাতটির ওই অংশ পাশের অংশের চেয়ে নিচু। ঠিক নিচু অংশের শুরুতেই পাশাপাশি তিনটি স্ল্যাব বসানো। তার মধ্যে ডান পাশের স্ল্যাবটি অন্য দুটির চেয়ে নিচু হয়ে আছে।
ওই তিনটি স্ল্যাবের মধ্যে উঁচু দুটির উপর পা দিয়ে এক ব্যক্তি ফুটপাতের ওই অংশ পেরিয়ে যান। ঠিক পর মুহূর্তে পাশের নিচু স্ল্যাবটির উপর পা দেন ওই নারী। নিচু হয়ে থাকা স্ল্যাবটির উপর ডান পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি উল্টে নালায় পড়ে যায়। সঙ্গে ওই নারীও নালায় পড়ে যান।
ঘটনাটি দেখে আশপাশে থাকা ১৫-২০ জন লোক ছুটে এসে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ওই নারীকে নালা থেকে টেনে তোলেন।
পরে পাশের দোকানের লোকজনকে নারীর হাতে বোতল থেকে পানি ঢালতে দেখা গেছে ভিডিওতে।
এ বিষয়ে সিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিফাতুল করিম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এখানে কয়েকদিন আগে নালা পরিষ্কার করা হয়। তারপর হয়ত স্ল্যাব ঠিকভাবে বসানো হয়নি।”
ঘটনা শুনে সেখানে লোক পাঠানোর পর ওই নারীকে পাওয়া যায়নি। স্ল্যাব বসানোর জন্য ক্রেন আসতে বলা হয়েছে। আপাতত স্থানটি ঘিরে রাখার তথ্য দেন তিনি।
এর আগে ২০২১ সালের ২৫ অগাস্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে মুরাদপুর মোড়ে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় চশমা খালে পড়ে নিখোঁজ হন ৫৫ বছর বয়সী সালেহ আহমদ। তার খোঁজ আর পাওয়া যায়নি।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নগরীতে খাল নালায় পড়ে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। তাদের বয়স ছয় মাস থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত।
এসব ঘটনায় ৭ জন নালায় পড়ে এবং অন্য ৮ জন খালে পড়ে মারা যান। খালে পড়ে মৃত্যুর এসব ঘটনা ঘটেছে নগরীর চাক্তাই খাল, চশমা খাল, নাছির খাল ও হিজড়া খালে।
এরমধ্যে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে একজন করে, ২০২১ সালে ৫ জন, ২০২৩ সালে ৩ জন, ২০২৪ সালে ৪জন এবং চলতি বছর ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন
