১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এল প্রথম জলহস্তী

“আশা করছি জলহস্তীগুলো চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় খাপ খাইয়ে নিতে পারবে,” বলেন ডেপুটি কিউরেটর।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jan 2024, 04:55 PM

Updated : 20 Jan 2024, 04:55 PM

‘অদল-বদল’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এক জোড়া বাঘ রংপুর চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে তার বিনিময়ে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া জলহস্তী পেয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।

এর আংশ হিসেবে প্রথম দফায় একটি পুরুষ জলহস্তী বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে বলে চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ জানিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে দুই বছর বয়েসী এক জোড়া বাঘ রংপুর চিড়িয়াখানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ১২ বছর বয়েসী একটি পুরুষ জলহস্তী আনা হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে আরেকটি জলহস্তী আনা হবে। 

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জলহস্তী আনার বিষয়ে ২০২১ সালের শেষ দিকে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রহমান। কিন্তু উত্তর পাওয়া যায়নি। নানাভাবে কথা চালাচালির মধ্যে গত বছরের ২২ অগাস্ট মাসে তিনি দুই জোড়া জলহস্তী চেয়ে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবারও চিঠি দেন।

সেই প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চাওয়া হয়, রংপুর চিড়িয়াখানার জন্য এক জোড়া বাঘ এবং ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানার জন্য এক জোড়া সাম্বার হরিণ ও ইন্দোনেশিয়ার এক জোড়া আয়াম সিয়ামি মোরগ দিতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা রাজি আছে কি না। পাশাপাশি শর্ত দেওয়া হয়, রংপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ পাঠানো এবং জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে জলহস্তী চট্টগ্রামে নেওয়ার যাবতীয় ব্যয়ভার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে বহন করতে হবে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ রংপুরে বাঘ পাঠানো এবং ঢাকা থেকে জলহস্তী আনার ব্যয়ভার বহন করার শর্তটি মেনে নিলেও তাদের চাওয়া অন্য প্রাণীগুলো চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত না থাকায় সেগুলোর প্রজনন সাপেক্ষে পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ১২ জানুয়ারি চিঠি পাঠায়। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জলহস্তী দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রণালয়। সাত মাস পর প্রথম জলহস্তীটি পেল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।

ডেপুটি কিউরেটর শুভ বলেন, “জলহস্তী আনার অনুমতি পেয়েই আমরা সেগুলোর বাসস্থানসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ শুরু করেছিলাম। সেগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি জলহস্তীগুলো চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।”

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)