Published : 07 Aug 2025, 01:04 PM
সকাল থেকে তিন ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকার পথঘাট; বসত ঘর আর বিপণি বিতানেও পানি ঢুকেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে নগরীতে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর ভোর থেকে টানা বর্ষণে নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, চান্দগাঁও আবাসিক, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, হালিশহর বসুন্ধরা আবাসিক, নন্দীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আমবাগান আবহাওয়া অফিস। শেষ ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
সকালে ভারি বর্ষণে নগরীর মুরাদপুর এলাকার সড়কে পানি উঠে যায়। পাশের চশমা খাল দিয়ে তীব্র গতিতে পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়। খাল উপচে পানি রাস্তায় উঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে।
এছাড়া নগরীর বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটের ভেতরে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। আশেপাশের এলাকাতেও ছিল জলাবদ্ধতা।
স্বজন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের এখানে নালার উপর থাকা স্থাপনা ভাঙা হয়েছে কয়েক মাস আগে। কিন্তু পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থা এখনো হয়নি। নালায় কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। আজকে তাই আবার পানি উঠেছে।”

মুরাদপুরের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ সকালে দেওয়ানহাট মোড়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বিপাকে পড়েন।
তিনি বলেন, “রাস্তায় বেরিয়ে দেখি পানি। রিকশাভ্যানে করে অনেক কষ্টে পানির অংশ পার হতে হয়েছে।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডের নন্দীরহাট সাহাপাড়া এলাকাতেও সকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ওই এলাকার সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
এর আগে ৩১ জুলাই সকালে ৬ ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবেছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা।

এদিকে দুই নম্বর গেইট থেকে অক্সিজেনমুখী বায়েজিদ বোস্তামি সড়কের স্টার শিপ এলাকায় শীতল ঝর্ণা খালের ওপর থাকা সেতুটি সকাল ৬টার দিকে ভারি বৃষ্টির মধ্যে ধসে পড়ে।
ফলে সড়কের একপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে অন্য পাশ দিয়ে গাড়ি চলছে। উভয়মুখী গাড়ি একই লেন দিয়ে চলাচল করায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট।
চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা, অক্সিজেন মোড় হয়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িমুখী যানবাহন চলে বায়েজিদ বোস্তামি সড়ক দিয়ে। সড়কটির দুই পাশে বেশ কিছু শিল্প কারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিফাতুল করিম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি বহু বছরের পুরনো ইটের তৈরি সেতু। ১৯৮০ সালের দিকে করা হয়েছিল। পানির চাপে সেতুটি ভেঙে গেছে। এখন রাস্তার ওই অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে।”