Published : 08 Apr 2024, 08:11 PM
চট্টগ্রামে চান্দগাঁও এলাকায় চুরির অভিযোগে এক যুবককে পিটুনির পর মৃত্যু হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরে প্রচার চালিয়ে পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে দাফনের আগে গোসলের সময় শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
নগরীর চান্দগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খরম পাড়ায় রোববার এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সোমবার এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত শহীদুল্লাহর (৩৭) বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে। তিনি চান্দগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খরমপাড়ায় ছিদ্দিক ম্যানশন নামে একটি ভবনে প্রহরীর কাজ করতেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- ভবন মালিকের শ্যালক ফোরকান উদ্দিন (৩৭) ও তাদের বাসার বাবুর্চি মামুন মিয়া (৩৮)।
চান্দগাঁও থানার ওসি জাহিদুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুবাই প্রবাসী আবু ছিদ্দিকের মালিকানাধীন ছিদ্দিক ম্যানসন ভবনটির দেখভাল করতেন তার শ্যালক ফোরকান। গত তিন মাস আগে ফোরকান ভবনের প্রহরী হিসেবে শহীদুল্লাহকে নিয়োগ দেন। সপ্তাহ খানেক আগে বাড়িওয়ালার বাসায় চুরির অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
“সোমবার সকালে শহীদুল্লাহকে পুনরায় বাসায় ডেকে এনে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক শহীদুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করলে লাশটি নিজেদের হেফাজতে রেখে দেয় বাড়ির মালিক।”
ওসি বলেন, সন্ধ্যায় শহীদুল্লাহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে তার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশটি বাঁশখালীতে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
ওসি জাহিদুল বলেন, “লাশ দাফনের আগে গোসলের সময় পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী শহীদুল্লাহর হাতে পায়ে রশি দিয়ে বাঁধার দাগ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কালচে দাগ দেখতে পান। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিষয়টি টেলিফোনে আমাকে জানানোর পর বাঁশখালী থানার ওসিকে খবর নিতে বলি।
“বাঁশখালী থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং আমরা সেটি চট্টগ্রামে নিয়ে এসে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠাই।”
ওসি জাহিদুল বলেন, ভবন মালিক ছিদ্দিক দুই মাস আগে এবং তার ছেলে শাওন গত সপ্তাহে দেশে আসেন।
“তারা শহীদুল্লাহকে মারধর করে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। লাশ উদ্ধারের পর চান্দগাঁও থানা পুলিশ খরম পাড়ায় ছিদ্দিক ম্যানসনে গিয়ে বাড়ির মালিককে পাইনি। বাসায় তালা লাগিয়ে তারা সবাই পালিয়ে গেছেন। সকাল চান্দগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুন মিয়াকে আটকের পর খরম পাড়ায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ফোরকানকে আটক করা হয়।”
পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদুল এও বলেছেন, “স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছে, রোববার সকালে ভবন থেকে কান্নার শব্দ শোনা গেছে। কিন্তু বাইরের গেইট লাগানো থাকায় তারা ঘটনাটি জানতে পারেনি। ওই ভবনে সিসি ক্যামেরা থাকলেও বাড়ির মালিক সেটির ডিভিআর খুলে সরিয়ে ফেলেছে।”
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শহীদুল্লাহর বোন বাদী হয়ে ফোরকান, মামুন, ভবন মালিক ছিদ্দিক ও তার ছেলে শাওনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ওই মামলায় ফোরকান ও মামুনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।