Published : 25 Dec 2024, 08:51 PM
চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন।
বুধবার সকালে নগরীর পাথরঘাটায় রানি জপমালা গির্জায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা।
গির্জার প্রধান পুরোহিত রেগ্যান ক্লেম্যান ডি কস্তা'র পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত প্রার্থনায় যিশু খ্রিষ্টের জীবন থেকে শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ-জাতির সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করা হয়।
নগরীর ফিরিঙ্গি বাজার আরসি চার্চ, পাহাড়তলীর গির্জা, জুবলি রোড চার্চ এবং আনোয়ারা দেয়াঙ পাহাড়ের খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়ে ছিল বড়দিনের আয়োজন।
প্রার্থনা শেষে ফাদার রেগ্যান ক্লেম্যান ডি কস্তা সংবাদকর্মীদের বলেন, “আমাদের এই দেশ যেন শান্তিতে থাকে, আমরা যেন সবাই একে অন্যের মাঝে শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারি, এটাই প্রার্থনা। প্রভু যিশু এই পৃথিবীতে এসেছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, ভালোবাসার জন্য; এই ভালোবাসা যেন আমরা একে অন্যকে দেখাতে পারি।”
প্রার্থনার পর শুরু হয় কীর্তন। সব বয়সী মানুষ যিশুর গুণগান বর্ণনা করে কীর্তনে অংশ নেন।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর বসবাস পাথরঘাটা এলাকায়। বড়দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত থেকেই বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষায় প্রার্থনা হয় পাথরঘাটার পবিত্র জপমালা রানি গির্জায়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় ইংরেজিতে এবং রাত ১২টায় ইংরেজিতে প্রার্থনা করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে যিশুকে গোশালায় স্থাপন করা হয়।
বড়দিন উপলক্ষে গির্জাগুলো মঙ্গলবার থেকে সাজানো হয় গোশালা, ক্রিসমাস ট্রি ও আলোকসজ্জায়।
সবশেষ বুধবার রাতে নগরীর রানি জপমালা গির্জায় সব ধর্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সুধী সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এছাড়া নগরীর অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র কনকর্ড ফয়’স লেক এমিউজমেন্ট পার্কে বড়দিনের আয়োজন শুরু হয় বিকাল ৩টায়।
সেখানে শিশুদের নিয়ে কবিতা গান ও অন্যান্য পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে শিশুদের উপহার তুলে দেন সান্তা ক্লজ।
বিকাল ৪টায় উৎসবের কেক কাটে শিশুরা। বিকাল ৫টায় শুরু হয় রাজীব বসাকের জাদু প্রর্দশনী। এরপর ছিল সংগীত আয়োজন।