ডেঙ্গু: ফুটপাতে মশারির ভেতর বসে প্রতিবাদ ৫ নারীর
“শিশুদের এত কষ্ট দেখে মা-বাবারা কীভাবে ভাল থাকে?”
ডেঙ্গু মোকাবিলায় ‘ব্যর্থতার’ প্রতিবাদে ফুটপাতে মশারি টানিয়ে তার ভেতরে বসে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন চট্টগ্রামের পাঁচ নারী।
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ সরকার ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা’ শিরোনামে গণশুনানির নামে শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে চলাকালে পাশে টানানো একটি বোর্ডে লেখা হয় ‘মশা বড় নাকি মেয়র বড়?’।
এ কর্মসূচির আয়োজনকারী হাশমিরা হায়দার চৌধুরী বলেন, “মেয়রের কাছে কী মনে হয়- উনার ক্ষমতা বেশি নাকি মশার ক্ষমতা বেশি? বর্তমানে আমাদের মনে হচ্ছে মশার ক্ষমতাটাই বেশি। তাই আমরা মশারির ভেতর থেকে কথা বলছি।”
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আরেক তরুণী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ডেঙ্গুতে যে এত শিশু মারা যাচ্ছে তা নিয়ে মেয়রের কোন পরিকল্পনা নেই। এত মানুষ যে মেডিকেলে ভর্তি, এর ব্যর্থতা কার?
আরেক নারী বলেন, “আমি একজন মা হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। সবার বাসায় বাচ্চা আছে। এমন পরিস্থিতি যে আজ এই প্রশ্ন উঠেছে কে বড়— মশা বড় নাকি মেয়র বড়? হাসপাতালে এত রোগী যে বেড খালি নাই। শিশুদের এত কষ্ট দেখে মা-বাবারা কীভাবে ভাল থাকে বলেন?”
পরে সেখানে পথচারীদের নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, মশা নিধন কার্যক্রম এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন সাধারণ মানুষ।
সেদিনই নগরীর বাকলিয়ায় মশন নিধনে ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত ক্রাশ প্রোগ্রামে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়, এইডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
“নগরীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হলে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে উদ্যোগী হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।”
নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ভাষ্য মেয়রের।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের শনিবারের প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। চলতি মাসে মারা গেছে দু’জন।
মৃতদের মধ্যে ৭ জন শিশু ও ১১ জন নারী। বাকি ৫ জন পুরুষ।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৫৯ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৩০ জন আক্রান্ত হয়। চলতি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৮৯৩ জনের।
