ডেঙ্গু রোধে ঢাকা দক্ষিণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ২৯ ওয়ার্ডে অভিযান শুরু
অভিযানের আওতায় নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।
এইডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জরিপে চিহ্নিত ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার (বি-টাইপ) প্রাঙ্গণে রোববার দুপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”
সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “জরিপে দেখা যায়, প্লাস্টিক বালতিতে ১৪.২১ শতাংশ, প্লাস্টিক ড্রামে ১১.২২ শতাংশ, বেইজমেন্টের জমানো পানিতে ৯.৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিক মগে ৯.২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫.৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নাগরিকরা নিজ আঙিনা ও পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলে প্রাথমিক অবস্থাতেই অর্ধেক (৫০.৯ শতাংশ) এইডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
ডিএসসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিরুনি অভিযানের আওতায় নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরপরও কোথাও এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও এইডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের ২ ২৫০টি বাড়িতে ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ’ পরিচালনা করা হয়।
এতে বহুতল ও সেমিপাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং খালি প্লটসহ মোট ৩২২টি বাড়িতে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ২৮টিকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১৮টিকে ‘সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অভিযানের উদ্বোধনে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তালুকদার ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান উপস্থিত ছিলেন।
