Published : 23 May 2026, 03:27 PM
ঢাকা ও চট্টগ্রামে শিশু ‘ধর্ষণের’ দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি ও সমাবেশ করার কথা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রায় তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শিশু রামিসার স্মরণে কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় শিশুরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়, যার মধ্যে ছিল- ‘তোমার আমার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘তুমি কে, আমি কে- রামিসা, রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই- ধর্ষকের ফাঁসি চাই’।
মানববন্ধন চলাকালে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, “রামিসাসহ সকল শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
“আমরা প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করুন।”

সমাবেশে ব্যুরো বাংলাদেশের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম বলেন, “আমরা এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রত্যাশা করি, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে সম্ভাব্য অপরাধীদের নিরুৎসাহিত করবে এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
নারী মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংস্থা ইলমা’র পরিচালক জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, “আজ নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিজ গৃহেও তারা অনেক সময় নিরাপদ নয়। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
ঘাসফুল এর সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রামিসার ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।”
অগ্নিবীণার শিশু প্রতিনিধি রাফিয়া বলেন, “আজ আমার বোন রামিসা নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে; আগামীকাল আমি বা অন্য কোনো শিশু যে একই পরিণতির শিকার হব না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”

ব্রাইট বাংলাদেশের প্রতিনিধি উৎপল বড়ুয়া বলেন, “আইন ও বিধিবিধান থাকা সত্ত্বেও কেন অপরাধীরা অপরাধ করতে সাহস পায়- সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে না পারলে এ ধরনের অপরাধ কমবে না।”
সমাবেশে শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “দেশে শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করলেই হবে না। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং নাগরিক সমাজকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কারিতাসের প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড ভিশনের পায়েল ক্রিস্টিনা দাশ, সংশপ্তকের লিটন চৌধুরী এবং আইডিএফের সিনিয়র সহকারী কো-অর্ডিনেটর রাহেনা বেগম।
এছাড়া এডাব, ওয়ার্ল্ড ভিশন, অপরাজেয় বাংলা, ব্যুরো বাংলাদেশ, প্রত্যাশী, ওয়াইডব্লিউসি, ইপসা, সংশপ্তক, বিলস, টিআইবি, বিটা, সিআরবি, স্পার্কসহ বিভিন্ন নাগরিক ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।