Published : 30 Jul 2025, 09:41 PM
চট্টগ্রামের রাউজানে সংঘাতের ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ স্থগিত হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
বুধবার বিকালে ঢাকার বারিধারায় নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনে আমার পদ সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
মঙ্গলবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার নেতাকর্মীদের নিয়ে রাউজানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন। পথে তার গাড়ি বহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
আক্রমণকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়ি বহরে হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গোলাম আকবর খন্দোকারের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর ও বেশকিছু মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
ঘটনার পর গোলাম আকবর স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, “গিয়াস উদ্দিন কাদেরের নির্দেশে এ অশুভ পরিকল্পনা হয়েছে।”
ওই ঘটনার পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সেই সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদ স্থগিত করে বিএনপি।
অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়াস কাদের চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সম্প্রতি দলের কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘দলের অভ্যন্তরে হানাহানি ও সংঘাতে মদদ দিয়েছেন এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন’- যা আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমি এহেন কোনো ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নই।”
দুইবারের সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, "যে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি পক্ষপাতদুষ্ট ও সত্যনিষ্ঠ নয়। আমি দাবি জানাই এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। আমি নিজেও তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
“দলের অভ্যন্তরে একটি ষড়যন্ত্রমূলক গোষ্ঠী বিএনপির আদর্শ ও নেতৃত্বকে বিতর্কিত করতে সচেষ্ট। আমি আশা করি, চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিচক্ষণ নেতৃত্বে একটি ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত হবে এবং আমার রাজনৈতিক সম্মান পুনঃস্থাপন করা হবে।”
যুদ্ধাপরাধের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, “আমি বিএনপির একজন আদর্শিক রাজনীতিক। শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি সর্বদা দলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং জনগণের পাশে থেকেছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও একটি বিশেষ মহলের চক্রান্তমূলক প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।"
তিনি বলেন, “আমি শুধু নিজে সন্ত্রাস ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ছিলাম না, বরং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় আওয়ামী প্রভাবিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছি।
“আমি একাধিকবার দলের কেন্দ্রীয় ফোরামে লিখিতভাবে এবং সরাসরি কিছু নেতা-কর্মীর অপতৎপরতার বিষয়ে সতর্ক করেছি। তা সত্ত্বেও উল্টো আমাকে অপরাধী বানিয়ে পদ স্থগিত করা দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থি ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”
গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, “আমার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গত ২২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর একটি চিঠি প্রদান করেছি, যাতে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। অথচ সেই উদ্যোগকেই ভুল ব্যাখ্যা করে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”