Published : 10 Dec 2025, 03:48 PM
ডান পায়ের থাবার অংশটি নেই। শারীরিকভাবেও ছিল দুর্বল। উড়তে উড়তে ক্লান্ত হিমালয়ান শকুনটি আকাশ থেকে পড়ে একটি মাদ্রাসার আঙিনায়।
মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মিলে শকুনটিকে খাবার খাওয়ায়। কিন্তু তারা চিনতে পারছিলেন না, এটি কী পাখি। কেউ বলছিলেন ঈগল। ওই এলাকায় এমন পাখি আগে আর দেখা যায়নি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকার একটি কামিল মাদ্রাসার আঙিনায় মঙ্গলবার বিকেলে এসে পড়ে হিমালয়ান শকুনটি। পরে বন বিভাগকে খবর দেয় স্থানীয়রা। রাতে গিয়ে সেটি নিজেদের জিম্মায় নেয় বন বিভাগের একটি দল।
বন বিভাগের সাতকানিয়া মাদার্শা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হিমালয়ান শকুনটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়ার পর এটি সুস্থ আছে। চুনতি বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে আমরা শকুনটি হস্তান্তর করেছি।
“আজ হয়ত কক্সবাজারের ডুলাহাজার সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসা শেষে এটিকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।”
হিমালয়ান শকুনটি উদ্ধারের বিষয়ে নাজমুল হোসেন বলেন, “রাতেই স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। এর আগে বিকেলে শকুনটি ওই মাদ্রাসার আঙ্গিনায় পড়ে।
“তখন শিক্ষক ও ছাত্ররা মিলে সেটিকে একটি ব্রয়লার মুরগির মাংস খাওয়ায়।”
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নাজমুল হোসেন জানান, “ওই এলাকায় আগে কেউ এমন কোন পাখি দেখেনি। কেউ বলছিল এটি ঈগল। কেউ বলছিল ঈগল নয় অন্য কিছু। খুব বয়স্ক কয়েকজন চিনতে পেরেছিল যে, এটি শকুন।

“দুই পাখা মেললে এটির আকার প্রায় দুই মিটার। ওজন ৭ কেজির মত। এটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক হিমালয়ান শকুন। শীতে এই প্রজাতির শকুন হিমালয় ও আশেপাশের এলাকা থেকে একটু বেশি তাপমাত্রার এলাকায় উড়ে যায়। তাই শীতে বাংলাদেশে হিমালয়ান শকুনের দেখা মেলে।”
শকুনটির ডান পায়ের থাবার অংশটি নেই জানিয়ে মো. নাজমুল হোসেন বলেন, “সেই অংশে একটি পুরনো আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে এটি এক পায়ে দাঁড়াতে পারে।”
বন বিভাগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারবেশন অব নেচার (আইইউসিএন) পরিচালিত শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের মুখ্য গবেষক সীমান্ত দীপু গত মাসে এক ফেইসবুক পোস্টে জানান, “প্রতি বছর শীতকালে হিমালয়ী গৃধিনী শকুন (Himalayan Griffon Vulture) তিব্বত ও হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিযায়ী পাখি হিসেবে বাংলাদেশে আসে । দীর্ঘ পরিযায়নে এই পাখিগুলো কান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়ে এবং উড়তে পারে না।
“যদি কোথাও হিমালয়ী গৃধিনী আটকে পড়ে বা বিপদে পড়ে, তাহলে দয়া করে দ্রুত স্থানীয় বন বিভাগ বা আইইউসিএন-এর দলকে জানান।”
উদ্ধার হওয়া হিমালয়ান গ্রিফন শকুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম Gyps himalayensis। আইইউসিএনের লাল তালিকায় এ শকুনকে রাখা হয়েছে ‘প্রায়-বিপদগ্রস্ত’ ক্যাটাগরিতে। এর মানে হল, এই প্রাণীর প্রজাতি নিকট ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।