দ্বন্দ্বে আটকে থাকা চট্টগ্রামের দুই ওভারপাস নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ডবল ডেকার ট্রেন এখনও চালু না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ওভারপাসের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 01:32 PM
Updated : 14 Sept 2022, 01:32 PM

রেল লাইনের উপর উচ্চতা নিয়ে সরকারি দুই সংস্থার দ্বন্দ্বে আটকে থাকা চট্টগ্রামের দুটি ওভারপাসের নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইতোমধ্যে ওভারপাসের উচ্চতা ৭ দশমিক ৫ মিটার ধরে বেশির ভাগ কাজ শেষ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে ডবল ডেকার ট্রেনের জন্য উচ্চতা ৮ দশমিক ৫ মিটার রাখতে হবে জানিয়ে তাতে আপত্তি দেয় রেলওয়ে।

তবে ডবল ডেকার ট্রেন এখনও চালু না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ওভারপাসের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) মঙ্গলবারের সভায় এ নির্দেশনা আসে বলে জানান তিনি। 

প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে নগরীকে যুক্ত করা বায়েজিদ লিংক রোডের ওভারপাস এবং পতেঙ্গা-সাগরিকা হয়ে টোল রোড ধরে মহাসড়কে সংযোগকারী আউটার রিং রোড প্রকল্পের ওভারপাসের কাজ বন্ধ আছে।

একনেক সভায় উপস্থিত থাকা সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় আমরা চিঠি দিয়ে তা আমাদের মন্ত্রণালয় (গণপূর্ত) এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম।

“গতকালের একনেক সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মহোদয় বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী আগে থেকে বিষয়টি জানতেন।”

হাসান বিন শামস বলেন, “সভায় উত্থাপনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডবল ডেকার ট্রেন এখনও হয়নি। সেটা করতে সময় প্রয়োজন। তাই দ্রুত এই ওভারপাস দুটির কাজ যেন শেষ করা হয়।”

সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন মঙ্গলবারের ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ওভারপাস দুটির অবশিষ্ট কাজ শেষ করার বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “একনেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর ভিত্তিতে আমরা দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু করব।

“আশা করি দুই মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পারব। যেহেতু ডিসেম্বর মাসে টানেল চালু হওয়ার কথা রয়েছে তাই এর আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।”

ওভারপাসের পিয়ার এবং বেশিরভাগ গার্ডারও বসানো হয়ে গেছে। বাকি শুধু রেললাইনের ওপরের অংশে গার্ডার স্থাপন। ওভারপাস দুটির কাজ শেষ না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক প্রকল্পের সুফলও আটকে যায়।

এ বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

ইতোপূর্বে বিষয়টি সুরাহা করতে রেল ও সিডিএ’র মধ্যে চিঠি চালচালি, কমিটি গঠন, সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানায় সিডিএ। সবশেষ মন্ত্রিপরিষদ সচিবকেও চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়।

২০১৬ সালের জুনে ১৭২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে বায়েজিদ লিংক রোড এবং আউটার রিং রোড প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুরুতে দুই লেইন করার কথা থাকলেও ওই বছর অক্টোবরে ৩২০ কোটি টাকায় তা চার লেইনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়।

একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে আউটার রিং রোড এবং বছরের শেষ দিকে ঢাকা ট্রাংক (ডিটি) রোড (ফৌজদারহাট)- নগরীর বায়েজিদ অংশকে সংযোগকারী লিংক রোডের কাজ শুরু হয়।

২০১৬ সালে রেললাইনের ওপর ওভারপাসের জন্য রেলওয়ে নির্ধারিত উচ্চতা ছিল ৬ দশমিক ৫ মিটার। ২০১৮ সালে সেটা বাড়িয়ে করা হয় ৭ দশমিক ৫ মিটার।

সিডিএ ৭ দশমিক ৫ মিটার রেখে লিংক রোড এবং আউটার রিং রোডের ফিডার রোড-৩ এর দুটি ওভারপাসেরই কাজ শুরু করে। সবশেষ ২০২০ সালে রেলওয়ে উচ্চতা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ মিটার করতে বলে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, রেলওয়ের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডবল ডেকার কন্টেইনারবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য ওভারপাসের উচ্চতা ৮ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করার কথা বলা হয়। সে কারণে ওভারপাস দুটির ক্ষেত্রে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন।

আরও খবর

উচ্চতা কত হবে? রেল-সিডিএ দ্বন্দ্বে আটকে চট্টগ্রামের দুই ওভারপাস

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক