Published : 02 Apr 2026, 02:20 PM
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে শারজাহ বন্দরের জলসীমায় আটকে পড়া জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরের দিকে যাত্রা করেছে ।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজটি বুধবার রাতে নতুন গন্তব্যে রওনা হয় বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতরাতে শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙর থেকে আমরা নোঙর তুলে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেছি।
“এই দূরত্ব ৩৬০ নটিক্যাল মাইলের। আশা করি, শুক্রবার রাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব।”
এ যাত্রায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’ পারস্য উপসাগর দিয়ে গন্তব্যের দিকে যাবে। ফলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে হবে না।
এর আগে গত ১২ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানেই ২১ দিন আটকে থাকতে হয় জাহাজটিকে।
তার আগে জাহাজটি আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির পথ ধরেছিল। তবে আমিরাতের কোস্ট গার্ড ওই পথে না আগানোর পরামর্শ দিলে যানটি ফিরে আসে।
জাহাজটি এখন রাস আল খাইর বন্দরে পৌঁছানোর পর কোথায় যাত্রা করবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাস আল খাইর বন্দর থেকে সার নিয়ে ব্রাজিল অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা অথবা মোজাম্বিকের উদ্দেশে বাংলার জয়যাত্রা রওনা হতে পারে। তবে কোন গন্তব্যে যাবে তা এখনো চার্টার প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেনি।”
‘বাংলার জয়যাত্রা’ এখন পরিচালনা করছে সিঙ্গাপুরের দাওয়া এজেন্সি চার্টার করেছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ভাড়ায় জাহাজ নিয়ে তা বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করে থাকে।
কাছের জাহাজে হামলা
আমিরাতের শারজাহ বন্দরের জলসীমাতে থাকা অবস্থায় রোজার ঈদ উদযাপন করতে হয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ৩১ নাবিককে।
দেশ থেকে অনেক দূরে সাগরে ঈদ করার অভিজ্ঞতা জাহাজটির নাবিকদের জন্য নতুন না হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এবারের ঈদ ছিল ভিন্ন রকমের।
জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের পরও কাছাকাছি অবস্থানে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও একটি তেলের ট্যাংকের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নাবিকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
“তবে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশি আলোচনা হয়নি। কেউ কাউকে টেনশন বুঝতে দিতে চায়নি বলেই হয়ত নিজেদের মধ্যে এসব নিয়ে আলাপ করেনি।”
শারজাহ ছেড়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরের দিকে যাত্রা করায় নাবিকরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন বলেও জানান তিনি।
বিএসসির এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, “জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার, পানি এবং জ্বালানিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম আছে। তারা বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা নিয়মিত খোঁজ রাখছি।”

‘বাংলার জয়াত্রার’ ২ মাস
বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে গত ২৬ জানুয়ারি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আসে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে সেটি।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর বাংলার জয়যাত্রার মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল।
সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হত। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেয় জাহাজটি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
ওই সময় আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ডের সদস্যরা জাহাজটিকে নিরাপদে সরে গিয়ে ঝুঁকির্পূণ এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই জাহাজটি শারজাহ বন্দরের জলসীমায় অবস্থান নিয়ে ছিল।
গত দুই মাসে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন বন্দরে অবস্থানকালে প্রায় প্রতিদিনই জাহাজ থেকে মিসাইল বা ড্রোন হামলা দেখেছেন নাবিকরা।
'বাংলার জয়যাত্রা' জেবেল আলী বন্দর ছাড়লেও আমিরাতেই 'আটকা'
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: জাহাজেই ঈদের জামাত 'জয়যাত্রা' নাবিকদের
মাথার উপরে ছুটে যাচ্ছে মিসাইল, জয়যাত্রার নাবিকদের ঈদ কাটবে জাহাজেই
যুদ্ধের মধ্যে জেবেল আলী বন্দরে আটকা বিএসসির জাহাজ 'জয়যাত্রা'