১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দরপত্র ছাড়াই মশা মারার ওষুধ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অভিযানে দুদক

অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়ার তথ্য জানিয়ে অভিযানকারী দলের প্রধান বলেছেন, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2023, 09:48 PM

Updated : 09 Feb 2023, 10:04 PM

দরপত্র ছাড়াই এক ঠিকাদারের কাছ থেকে বারবার মশা মারার ওষুধ কেনার অনিয়মের বিষয়ে তদন্তে নেমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (সিসিসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের একটি দল বেলা ১২টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টাইগার পাসে অস্থায়ী নগর ভবনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগে এ অভিযান চালায়।

এসময় দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল দেখতে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেঙ্গল মার্ক ইন্টারন্যাশনালের স্বত্তাধিকারী অরভিন সাকিব ইভানকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৬ বার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ তথ্য জানিয়ে তিন সদস্যের ওই এনফোর্সমেন্ট দলের প্রধান দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম ১ এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘বেইআইনিভাবে’ কাজ দিয়ে ‘লাভবান করার’ উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে।

অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওই দুদক কর্মকর্তা বলেন, “অভিযানে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মশার ওষুধ ক্রয়ে বরাদ্দ টাকা থেকে ১৬ বারে মোট ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে।

“গণখাতে ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০০৮) অনুসারে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে অনুসরণ না করে সিসিসি পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ৭৪(১) ও বিধি ৭৭ লঙ্ঘন করে সামগ্রিক চুক্তিকে ছোট ছোট মূল্য সীমায় (প্রতিবারে ৫ লাখ টাকার কম মূল্যের দরপত্র আহ্বান করে) ও সংখ্যায় ভাগ করে ওষুধ কিনেছে।”

গণখাতের ক্রয়বিধির (পিপিআর) ৭৬ (ট) ধারা অনুসারে- অতিজরুরি বা প্রয়োজনীয় পণ্য, কার্য এবং সেবা সরাসরি কেনা যায়। তবে এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকার বেশি কেনাকাটা করা যায় না।

মশা মারার ওষুধ কিনতে খরচ একবারে পাঁচ লাখ টাকার বেশি না দেখাতে কয়েকটি লটে ভাগ করে কেনা হয়।

মেসার্স বেঙ্গল মার্ক ইন্টারন্যাশনালের মালিক অরভিন সাকিব ইভান নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। নাছির মেয়র থাকাকালে সিসিসিতে ওষুধ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত হন সাকিব।

দুদকের অভিযানের বিষয়ে সিসিসি’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেসব ওষুধ কেনা নিয়ে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে বেশির ভাগ আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই কেনা হয়েছে।

“দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় তখন জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছিল।”

হাশেম বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর নথিপত্রে একই ব্যক্তির কাছ থেকে বারবার মশার ওষুধ কেনার বিষয়টি নজরে আসে। তারপর পুরো এক বছরের জন্য ওষুধ কিনতে ক্রয় পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ওষুধ কেনা হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বেঙ্গল মার্ক ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী অরভিন সাকিব ইভান বলেন, "সিটি করপোরেশেন সচরাচর ইজিপির (ই টেন্ডার) মাধ্যমে মশার ওষুধ কেনে। সেটা সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবে যখন জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন হয় তখন গণখাতের ক্রয় বিধি ৭৬ (ট) অনুসারে ওষুধের নাম ও পরিমাণ উল্লেখ করে কোটেশন আহ্ববান করে সিটি করপোরেশন।

"সেরকম গত বছরে কয়েকবার আহ্বান করা কোটেশনে আমি আবেদন করি। দর সর্বনিম্ন হওয়ায় আমি মশার ওষুধ সরবরাহ করেছি। সেখানে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।"

গত কয়েক মাসে তিনি সিটি করপোরেশনের কাছে কোনো মশা নিধনের ওষুধ বিক্রি করেননি দাবি করে ইভান বলেন, "আমার জানা মতে এই সময়ে আরও অনেকে এই পদ্ধতিতে অল্প পরিমাণে ওষুধ সরবরাহ করেছে।"