১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কানে তুলো পিঠে কুলো দিয়ে থাকলে অজনপ্রিয় হবেন: সরকারকে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা

‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান নিয়ে সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলি মোড় এলাকা থেকে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা করে বন্দর রক্ষা কমিটি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 01:59 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটিসহ অন্যান্য স্থাপনা ইজারার প্রশ্নে সরকারকে জনগণের কথা শোনার আহ্বান জানানো হয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটির পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে। 

‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান নিয়ে সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলি মোড় এলাকা থেকে বন্দর অভিমুখে এই পদযাত্রা কর্মসূচি হয়।

সেখানে এনসিটি, সিসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা না দেওয়ার দাবি জানান কমিটির নেতারা। 

পদযাত্রার আগে বাদামতলি মোড়ে হওয়া সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “এই আন্দোলন আজকের না। ১৯৯৭ সাল থেকে বন্দর রক্ষার আন্দোলন চলছে। চট্টগ্রামের শ্রমিকরা এটা কখনোই হতে দেবে না। বন্দর আমরা ছেড়ে দেব না। এটা মনে রাখেন। 

“নির্বাচিত সরকার অবশ্যই জনগণের বক্তব্য শুনতে হবে। কানে তুলো পিঠে কুলো দিয়ে থাকলে, অজনপ্রিয় হবেন। আমরা সেটা চাই না। আমরা চাই তারেক রহমান সাহেব উপলব্ধি করবেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু পরামর্শদাতা আপনাকে খারাপ পরামর্শ দিচ্ছে। আশা করি সেগুলো গ্রহণ করবেন না।”

তপন দত্ত বলেন, “কিছু লোক সরকারকে ভুল বোঝাচ্ছে। অতীতে ভুল বুঝে অনেক সরকারকে চলে যেতে হয়েছে। ভুল করবেন না। যদি ঘোষণা দেন ‘বন্দর দেব না’, তাহলে বড় সভা করে তারেক রহমানকে আমরা অভিনন্দন জানাব। 

“আমরা কেউ ভোটে দাঁড়াব না। আমাদের রুটি রুজি কেড়ে নেবেন না। বাংলাদেশকে আমরা রাশিয়া, ভারত, চীন, আমেরিকা কারো লীলা খেলার ক্ষেত্র হতে দিতে চাই না। বন্দর আমরা আগেও চালিয়েছি। ভবিষ্যতেও চালাতে পারব। মুনাফা না হলে তখন বলবেন।”

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “সবাই দেশকে ভালোবাসেন বলেই এই আন্দোলন। চট্টগ্রাম বন্দর হল উটপাখি। দেশের বাকি সব বন্দর হল টুনটুনি পাখি। সব বন্দরের সক্ষমতা মিলে চট্টগ্রাম বন্দরের দশ ভাগের এক ভাগও না। 

“আমাদের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর। দেশি বিদেশি লুটেরারা এই হৃৎপিণ্ড কেড়ে নিতে চায়। সরকার আমাদের। প্রত্যাশা করি সরকার আমাদের সাথে থাকবে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল জনবিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র আছে। এ থেকে সরকারকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।”

দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের রক্তে, ঘামে ও অর্থে করা এই কনটেইনার টার্মিনাল কখনোই আমরা অন্যদের হাতে তুলে দেব না। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের অদক্ষতার দায় শ্রমিকদের উপর চাপিয়ে বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দেওয়া যাবে না। আমাদের এটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। সরকার যত তাড়াতাড়ি বোঝে, তত দেশ ও জনগণের লাভ।”

একই দাবিতে আগামী ১৫ অগাস্ট শনিবার নাগরিক কনভেনশন করার ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। 

সমাবেশে ডক বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নয়, যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় তাদের থেকে উদ্ধার করতে এই আন্দোলন। 

“বন্দর বিদেশিদের দিয়ে দিলে তারা বাংলাদেশের টুটি চেপে ধরবে। বাংলাদেশ বাঁচবে না। এনসিটি, সিসিটি আমাদের শ্রমে আজ আধুনিক পর্যায়ে। অতীতেও প্রমাণ করেছি, আগামী দিনেও প্রমাণ করব বন্দর পরিচালনায় আমরাই সক্ষম। বিদেশিদের কোনো প্রয়োজন নেই।”

সমাবেশে টিইউসি যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, “এক বছর ধরে এই একটা বিষয়ে আমরা দাবি করছি- চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশ সরকারের অধীনে চলবে। এর সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জড়িত। 

“দেশে আমরা বসবাস করব। যারা বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, তারা কেউ বাংলাদেশে থাকে না। তারা বিদেশি নাগরিক। আমাদের বিনিয়োগের উপর তারা মাখন খেতে চান। নতুন বিনিয়োগ করতে না, তারা দেশ দখল করতে আসছেন? কোনোভাবে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেব না।” 

বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন।

পুরনো খবর

এনসিটি-সিসিটি ইজারা বন্ধের দাবিতে গণঅনশন

এনসিটি-সিসিটি ইজারার 'ষড়যন্ত্র' বন্ধের দাবিতে মাঠে বন্দর রক্ষা কমিটি

এনসিটি-সিসিটির ইজারা ঠেকাতে চট্টগ্রামে সমাবেশ

এনসিটি ইজারা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের প্রতিবাদ

এনসিটি-সিসিটি বিদেশিদের দিলে সারাদেশে প্রতিরোধের ঘোষণা ‘বন্দর রক্ষা কমিটির’

এনসিটি-সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল

টার্মিনাল বিদেশিদের দিলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে: স্কপ

এনসিটি-সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল

এনসিটি ইজারা: ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কথা চালিয়ে যেতে বলেছে সরকার

এনসিটি বিদেশিদের ইজারা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির পরিপন্থি কি না, প্রশ্ন প্রিন্সের