Published : 26 Mar 2026, 11:07 AM
স্বাধীনতা দিবসের ভোরে চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ফৌজদারহাটে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ভোরে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সকল শহীদদেরকে যাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যয় হচ্ছ, সবার আগে বাংলাদেশকে রেখে, বাংলাদেশের স্বার্থ সবার উপরে রেখে আমরা যেন দেশকে এবং দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

“যে স্বপ্নে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছিল, যেন প্রকৃত অর্থেই আমরা মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে পারি।”
এক প্রশ্নের জবাবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার যেটা বলেছেন, উনি সকলকে একসাথে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চান। উনি যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গত এক মাসে প্রত্যেকটিরই দৃশ্যমান কিছু কর্মকাণ্ড উনি করে দেখিয়েছেন। উনি করে দেখিয়েছেন, চাইলেই সম্ভব।
“আমরা চাই একটি সমৃদ্ধ, ইনক্লুসিভ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে।”
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবসে আমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। যারা আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না।
“চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে দেশের পক্ষে অবদান রাখা সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন একটি বড় বিষয়, কিন্তু সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

“দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। বিপ্লব উদ্যান, বধ্যভূমি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।”
চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে কাজ করছেন জানিয়ে মেয়র বলেন, “তবে অনেক স্থাপনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে সিটি কর্পোরেশনও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
“মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা দায়মুক্ত হতে পারব না।”
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও সালাম গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে। এছাড়া বিকালে জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।