০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রেয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর কেন অন্য দলের কোচ হননি, জানালেন জিদান

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, গত পাঁচ বছর অন্য কোনো দলের দায়িত্ব নেননি ফরাসি কিংবদন্তি।

রেয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর কেন অন্য দলের কোচ হননি, জানালেন জিদান
ফ্রান্সের নতুন কোচ জিনেদিন জিদান। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 06:43 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

লক্ষ্যে অবিচল থাকার পুরস্কার পেয়েছেন জিনেদিন জিদান। রেয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর, শুধু ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচই হতে চেয়েছেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর ফরাসি কিংবদন্তি জানিয়েছেন, এজন্য গত পাঁচ বছর অন্য কোনো দলের দায়িত্ব নেননি তিনি।

জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে মঙ্গলবার জিদানকে নিয়োগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করে তারা। 

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলের সঙ্গে কাজ করবেন জিদান।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে যাওয়ার অনেক আগেই দিদিয়ে দেশোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, ফ্রান্সের ডাগআউটে এটাই হবে তার শেষ টুর্নামেন্ট। সেই ধারাবাহিকতায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করা বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের স্থলাভিষিক্ত হলেন জিদান।

খেলোয়াড়ি জীবনের পর কখনও কোনো মূল দলের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা ছাড়াই, ২০১৬ সালে রেয়ালের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন জিদান। প্রথম দফায় প্রায় আড়াই বছরে তার হাত ধরে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

পরে আরেক দফায় মাদ্রিদের ক্লাবটিতে কোচ হিসেবে ফেরেন জিদান। সেবারও পান শিরোপার স্বাদ। দুই দফায় রেয়ালের হয়ে দুটি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১১টি ট্রফি জয় করেন তিনি। ২০১৭ সালে জেতেন ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারও।

২০২১ সালে রেয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করার পর, আর কোনো দলের দায়িত্ব নেননি জিদান। মাঝে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেন তিনি। সেই অপেক্ষায় কাটিয়ে দেন পাঁচটি বছর। স্বপ্নের দায়িত্ব পেয়ে জানালেন নিজের অনুভূতি।

“আমি কেবলই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হতে চেয়েছিলাম। সবসময় এই দলকে এর ভবিষ্যৎ কোচের চোখে দেখেছি। ঠিক এই কারণেই কোনো ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। রেয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর, আমি শুধুই ফ্রান্স জাতীয় দলকে কোচিং করাতে চেয়েছিলাম।

“আমি চাইলে তিন বছরের জন্য (অন্য কোনো দলের) দায়িত্ব নিতে পারতাম, কারণ তখনও দেশোঁ ফ্রান্স দলের দায়িত্বে ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার সিদ্ধান্ত জানান, এর ঠিক পরদিনই বুঝে যাই, পরবর্তী কোচ আমিই হতে চাই। এরপর সভাপতির সঙ্গে দেখা করি এবং চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়।”

জিদান ও দেশোঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্স দলের সতীর্থ ছিলেন দুজন। ওই আসরে ফরাসিদের নেতৃত্ব দেন দেশোঁ। আর দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জিদান। ওই বছর ব্যালন দ’রও জেতেন তিনি।

২০০৬ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে ফাইনালে টাইব্রেকারে ইতালির বিপক্ষে হেরে যায় ফরাসিরা। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের জার্সিতে ১০৮ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল ও ২৯ অ্যাসিস্ট করেন এই গ্রেট প্লেমেকার।

কোচ হিসেবে দেশোঁর মতো অতোটা অভিজ্ঞ না হলেও, তার মধ্যে যে একটা জাদু আছে, সেটার প্রমাণ ক্লাব ফুটবলে এরই মধ্যে দিয়েছেন জিদান। জাতীয় দলের দায়িত্বেও নিজের ছাপ রাখতে মুখিয়ে আছেন তিনি। 

“খুব শিগগিরই আমার কোচিংয়ের ধরন দেখতে পাবেন। ফুটবলই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আমি একজন নাম্বার টেন ছিলাম, আর আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে গোল করা। ২৫ বছর স্পেনে কাটিয়েছি, এর অর্থ কী তা আপনারা জানেন। মাঠে একজন নেতা ছিলাম। এখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নেতা হয়ে উঠছি।

“১৯৯৮ সালে সতীর্থদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার জীবনের সেরা ঘটনা। সেই দিনের জন্য চার-পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছিলাম। (এই মুহূর্তে) আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে আছি; আপনারা হয়তো তা বুঝতে পাচ্ছেন না, তবে আমি সত্যি ভীষণ রোমাঞ্চিত। খুব খুশি।”

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদানের পথচলা শুরু হতে পারে তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্সে লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২ অক্টোবর ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে খেলার কথা রয়েছে ফরাসিদের।