Published : 28 Jul 2026, 06:43 PM
টাঙ্গাইলের গোপালপুর সরকারি কলেজকেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে ২১ জনের উত্তরপত্র-ওএমআর শিটের প্রথম অংশ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ছাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, অবহেলার অভিযোগে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সেইসঙ্গে গোপালপুর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রের ২১ পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল উত্তরপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ওএমআর শিটের প্রথম অংশের একটি প্যাকেট ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল। পথে সেটি হারিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আর প্যাকেটটি পাওয়া যায়নি।
ওই দিন গোপালপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কারিগরি শাখায় ৫৫৬ জন এবং সাধারণ শাখায় ২৬৮ জনসহ মোট ৮২৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন।
ঘটনার পরদিন রোববার ওই কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মো. মানিকুজ্জামান গোপালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেইসঙ্গে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়।
এতে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
গোপালপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মানিকুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়। পরে বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সবকিছু জানানো হয়, যাতে পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশে কোনো জটিলতা না হয়।”
অব্যাহতি পাওয়া মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “কেন্দ্র থেকে ওএমআর শিট, এমসিকিউ উত্তরপত্র ও সৃজনশীল উত্তরপত্র একসঙ্গে বেঁধে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর জন্য অটোরিকশায় করে পোস্ট অফিসে নিয়ে যাই। সেখানে পৌঁছে দেখি ওএমআর শিটের প্যাকেটটি নেই।”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন।