Published : 27 Aug 2026, 07:41 PM
চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলির’ পর সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলে পরিচিত মো. মোবারক ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারককে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের পল্লানপাড়া গ্রামে বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে আরও ৩ সহযোগীসহ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি নাইন এমএম পিস্তল ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানা থেকে লুট করা এবং যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
বৃহস্পতিবার পুলিশ এ তথ্য দিয়ে বলেছে, অভিযানকালে গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার মোবারক যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী, সরোয়ার বাবলাসহ বেশ কয়েকটি খুনের সঙ্গে জড়িত। জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্য, গত ২৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে মোবারক।
অভিযানে মোবারকের সঙ্গে গ্রেপ্তার তার অন্য তিন সহযোগী হলেন- মোহাম্মদ রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নছির।
বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “গ্রেপ্তার মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন, পলাতক রায়হানের সঙ্গে একসাথে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সে সম্পৃক্ত।
“তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম, একটি সেভেন পয়েন্ট ৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, পাকিস্তানে তৈরি রিভলভার, একটি দেশীয় রিভলবার, এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড গুলি, সেভেন পয়েন্ট ৬৫ বোর পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, পিস্তল ও শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা নাইন এমএম পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট কোতোয়ালী থানা থেকে লুট হয়েছিল এবং মাসুদ হত্যাকাণ্ডে তা ব্যবহৃত হয়েছিল।”
অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “মোবারক ও তার সহযোগীরা বেশিরভাগ সময় পাহাড়ে বসবাস করেন। মঙ্গলবার রাতে পল্লানপাড়ায় তারা এক সহযোগীর বাড়িতে এসেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযানে গেলে ঘর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে এক পর্যায়ে সে আত্মসমর্পন করে।”
পুলিশ সুপারের দাবি, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে দুটি পিস্তল নিয়ে গিয়েছিল মোবারক। হত্যার সময় প্রথম গুলি ছোঁড়ে সে। পরে মাসুদ চৌধুরীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।
“মাসুদ হত্যাকাণ্ডে মোবারকের হাতে যে দুটি পিস্তল ছিল তার মধ্যে একটি ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পুলিশের কাছ থেকে লুট করা হয়েছিল।”
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটাহাজারি সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মঙ্গলবার রাতে মোবারক পল্লানপাড়ায় গ্রেপ্তার ফরিদ ও নাছিরের বাড়িতে অবস্থান করেছিল। তাকে পাহাড়া দিতেই ফরিদ ও নাছির অস্ত্রসহ তার সঙ্গে একই রুমে ঘুমিয়ে ছিল। বুধবার ভোরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোবারক পুলিশের কাছ থেকে লুট করা নাইন এমএম পিস্তল থেকে ৬ রাউন্ড গুলি করেছিল।”
সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিজে, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, কনস্টেবল মামুনুর রশিদ, শাহ নেওয়াজ ও সাদ্দাম হোসেন আহত হয়েছেন বলে তথ্য দেন কাজী তারেক আজীজ।
সাজ্জাদের নির্দেশেই কাজ করতেন মোবারক
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “মোবারক সবসময় বড় সাজ্জাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতেন। আমাদের সে জানিয়েছে, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে সে চিনত না। রায়হান তার মোবাইলে মাসুদ চৌধুরীর ছবি পাঠিয়ে তাকে মারার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। রায়হানের কথা অনুযায়ী সে মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করেছিল।
“এ বছরের জানুয়ারি মাসে নগরীতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়িতে চাঁদার দাবিতে গুলিবর্ষণকারীদের একজন ছিল মোবারক। এছাড়াও গত বছরের ৫ নভেম্বর নগরীর চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলি করে সরোয়ার বাবলাকে খুনের ঘটনায় মোবারক অংশ নিয়েছিল।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ বলেন, “পুলিশের ওপর গুলি করা এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মোবারক ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় বৃহস্পতিবার তাদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।”