১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এনসিটি: আন্দোলনে জড়িত ১৫ কর্মচারীর সম্পদ তদন্তে দুদককে চিঠি

“আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

এনসিটি: আন্দোলনে জড়িত ১৫ কর্মচারীর সম্পদ তদন্তে দুদককে চিঠি
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Feb 2026, 12:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনরত ১৫ কর্মচারীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

পাশাপাশি এই ১৫ জন ‘রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সাথে যুক্ত’ জানিয়ে, তারা যেন দেশ ছাড়তে না পরে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে বন্দরের পক্ষ থেকে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বৃহস্পতিবার এ অনুরোধ করা হয়। 

যাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে তারা হলেন-বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর, অপর সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মো. শফিউদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, হুমায়ুন কবির, শাকিল রায়হান, মানিক মিজি, শামসু মিয়া, লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী। 

সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের চিঠিতে বলা হয়েছে, “উক্ত কর্মচারীগণ রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত। এসকল বিপথগামী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও এজেন্সিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হল।”

চিঠিতে নাম দেওয়া কর্চমচারীদের স্থাবর অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতেও দুদককে বলা হয়েছে। 

এ বিষয়ে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপিওর্য়াল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল । প্রথম তিনদিন দিনে ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি চলছে গত মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা টানা কর্মবিরতি শুরু করেন। পরবর্তীতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে তারা আন্দোলনে নামেন।

এই আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন দফায় মোট ১৬ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন স্থানে বদলিও করে। 

পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ১৫ জনকে নতুন করে মংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। এই ১৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে নতুন করে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

টানা আন্দোলনের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে দুইদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা। 

আন্দোলনে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, 'উদ্বিগ্নব্যবহারকারীরা

চট্টগ্রাম বন্দরে বিক্ষোভের মুখে উপদেষ্টা সাখাওয়াত