Published : 09 May 2025, 01:12 PM
চট্টগ্রামে খাল থেকে উদ্ধার করা লাশ ভোলায় নিয়ে দাফনের চার দিন বাদে পুলিশ বলছে, যাকে মনে করে লাশ দাফন করা হয়েছে, মৃত ব্যক্তি সেই রাজমিস্ত্রি নন।
মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাজমিস্ত্রি আবদুর রহিমকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, পাওনাদারের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য ‘আত্মগোপনে’ চলে যান যুবক রহিম।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রহিমের কাছ থেকে অনেকেই টাকা পেতেন। পাওনাদারের কারণে সে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। কয়েকদিন মোবাইল বন্ধ রাখার পর সে পুনরায় সচল করে। সেই নম্বরের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার তাকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি।”
জিজ্ঞাসাবাদে রহিম বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে জানিয়ে মোস্তাফিজুর বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি লাশ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত করে লাশ ভোলায় নিয়ে দাফন করাসহ সবকিছুই তিনি পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছিলেন। কিন্তু গোপনে ছিলেন।”
রহিমকে হেফাজতে নেওয়ার পর তার বাবাকেও ভোলা থেকে ডেকে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ৩ মে নগরীর কোতোয়ালী থানার দেওয়ান বাজার এলাকায় খাল থেকে ভেসে থাকা একটি লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ওই দিন রাতে দুই ব্যক্তি থানায় গিয়ে উদ্ধার করা লাশটি আবদুর রহিম নামে এক রাজমিস্ত্রির বলে দাবি করে।
পুলিশ লাশটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরিবারের সদস্যরা গত ৪ মে চট্টগ্রাম থেকে লাশ ভোলায় নিয়ে দাফন করেছিল।
লাশ উদ্ধোরের পর রহিমের ফুফাত ভাই মো. নোমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, ঘাড় ও পেটের কাটা দাগ দেখে তারা রহিমের লাশ চিনতে পারেন।
রহিমের সহকর্মীদের বরাতে নোমান বলেছিলেন, “সাইটের অন্যান্য মিস্ত্রির সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১ মে) সকালে রহিম চা খেতে নেমেছিল। কিন্তু সে চা না খেয়ে একা বসেছিল। বেলা ১১টার দিকে তার কাছে একটা ফোন আসে এবং তাকে চান্দগাঁও থানার সামনে যেতে বলে। সেই ফোন পেয়ে সাইট থেকে বের হওয়ার পর আর রহিমের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুই দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়।”
নোমান এও বলেছিলেন, “বছর কয়েক আগে রহিমের ঘারে একটা অপারেশন হয়েছিল। সেখানে একটা মোটা দাগ আছে। আবার ২০১৪ সালে সাইটে কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে রহিমের পেটে লোহার রড ঢুকে গিয়েছিল, সেখানেও দুইটা দাগ আছে।
“ঘাড় ও পেটের দাগগুলো দেখেই মূলত তারা রহিমের লাশ শনাক্ত করেন।”
পিবিআই’র এক কর্মকর্তা জানান, গত ১ মে রহিম সাইট থেকে বের হয়ে মোবাইল বন্ধ করে কর্নেল হাট এলাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি মোবাইল বন্ধ করে চলে যান মীরসরাই। সেখান থেকে পুনরায় চট্টগ্রাম নগরীতে ফিরে আসেন। যতদিন তিনি বাইরে ছিলেন, ততদিন মোবাইল খোলা বন্ধ করার মধ্যে থাকতেন।
পিবিআই কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য রহিমকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই তারা বিষয়টি দেখবেন।”