একুশের চেতনা হারিয়ে ফেলা যাবে না: মেয়র রেজাউল

ভাষা বিজ্ঞানী ড. সৌরভ সিকদার বলেন, “অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে শহীদ মিনার প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে থাকবে। বিদেশি ভাষা শেখা কোনো বৈরিতা নয়, কিন্ত আগে আমাদের বাংলা ভাষা শুদ্ধভাবে লিখতে ও পড়তে জানতে হবে।”

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Feb 2024, 02:54 PM
Updated : 21 Feb 2024, 02:54 PM

একুশের চেতনায় জাতি বিনির্মাণে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অমর একুশে বইমেলা মঞ্চে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

মেয়র রেজাউল বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের জাতিসত্তার বিকাশে এক অনবদ্য সংযোজন। অসাধারণ আত্মত্যাগের এক বিশাল অর্জন। পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালি এক অনন্য জাতি। পৃথিবীতে খুব কম জাতি আছে যারা ভাষা, সংস্কৃতি রক্ত দিয়ে রক্ষা করেছে। 

“রক্ত দিয়ে বাঙালি নিজের রাষ্ট্র তৈরি করেছে, তার নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিকশিত করছে, অসম্প্রদায়িক চেতনা তুলে ধরছে। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একুশের চেতনা হারিয়ে ফেলা যাবে না। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে।”

চট্টগ্রামের বইমেলা সবার মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “আমাদের লোক সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। পুঁথি পাঠ হারিয়ে গেছে। কবি গান, যাত্রা গান বিলুপ্ত প্রায়। এজন্য আগামীতে আঞ্চলিক গানের উৎসব করব।”

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভাষা বিজ্ঞানী ড. সৌরভ সিকদার বলেন, “ভাষা একটি জাতির পরিচয়ের অনেক বড় একটি বাহন। ভাষাগত পরিচিতি একটি জাতিকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় ভূষিত করে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

“অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে শহীদ মিনার প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে থাকবে। বিদেশি ভাষা শেখা কোনো বৈরিতা নয়, কিন্ত আগে আমাদের বাংলা ভাষা শুদ্ধভাবে লিখতে ও পড়তে জানতে হবে।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক রেজাউল করিম এবং কাউন্সিলর নুরুল আমিন বক্তব্য রাখেন।  

এসময় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, আবদুল মান্নান, সংরক্ষিত কাউন্সিলর আনজুমান আরা, প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মানিক এবং প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম। 

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতা ও দেশের গান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, দ্য ক্লাসিকাল অ্যান্ড ফোক ডান্স, চারুতা ললিতকলা একাডেমি, বেতার ও টিভি শিল্পী ঐশী কর, নুসরাত জাহান রিনি, রিমি সিনহা, মো. জাহেদ হোসেন ও আলপনা দেব।