Published : 23 Nov 2025, 08:13 PM
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল এবং লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রতিবাদে ‘শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের’ (স্কপ) অবরোধ কর্মসুচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও বাম গণতান্ত্রিক জোট।
রোববার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সঙ্গে যুক্ত ৪৭টি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
একইভাবে চট্টগ্রাম পুরাতন রেল স্টেশন চত্বরে সমাবেশ থেকে অবরোধ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা।
বাংলাদেশ সড়ক ফেডারেশনের বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুছার সভাপতিত্বে এ সভা হয়।
সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম ও সিলেট) কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মৃণাল চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পাশে দেশের নৌবাহিনীর দপ্তর, তেল শোধনাগার কেন্দ্র ও বিমানবন্দর রয়েছে। এ ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে চট্টগ্রাম বন্দর ‘দুবাইভিত্তিক মার্কিনিদের’ তত্ত্বাবধানে গঠিত ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের’ হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বন্দর পরিচালনা ব্যবস্থাপনা এবং তাদের অবাধ যাতায়াত অধিকার দেওয়ার কারণে জাতীয় স্বার্থ ও স্বার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি বলেও মনে করেন শ্রমিক নেতা মৃণাল চৌধুরী।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির কার্যকরী সভাপতি রবিউল মওলা ও সাধারণ সম্পাদক অলি আহামদ।
রোববার বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি অশোক সাহা, বাসদ নেতা আল কাদেরি জয় ও আহমেদ জসিম।
গত শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে স্কপের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কনভেনশন থেকে ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়।
কনভেনশনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) কোনো স্থাপনা দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি, শ্রমিক ও বন্দরনির্ভর মানুষের জীবিকার জন্য হুমকি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি। এজন্য বন্দর অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
পুরানো খবর: