১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় ‘সম-অধিকার’ ও নিরাপত্তার দাবি

শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন পর্বের ঘটনার আদলে সেজে শোভযাত্রায় আসেন ভক্তরা। অনেকের হাতে দেখা যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 02:48 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

চট্টগ্রামে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে আয়োজিত জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা থেকে হিন্দুদের ‘সম-অধিকার’ ও নিরাপত্তার দাবি উঠে এসেছে। 

শুক্রবার সকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা মোড়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

এরপর বর্ণিল শোভাযাত্রাটি আন্দরকিল্লা মোড় থেকে শুরু হয়ে লালদিঘীর পাড়, কোতোয়ালি মোড়, নিউ মার্কেট, রাইফেল ক্লাব, বোস ব্রাদার্স, বৌদ্ধ মন্দির, মোমিন রোড ঘুরে জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে শেষ হয়। 

জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয় হাজারো মানুষ।

শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন পর্বের ঘটনার আদলে সেজে শোভযাত্রায় আসেন ভক্তরা। অনেকের হাতে দেখা যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার।

শোভাযাত্রা চলাকালে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “এই শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে আমরা জানিয়ে দিতে চাই, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের যে বাণী- ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’, সেই বাণীকে মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে চাই। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এই দেশটিকে পরিচালনা করতে চাই।” 

পরিষদের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ বলেন, “যে অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্য ও মৈত্রীর বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, সেই বার্তা আমরা এই মহাশোভাযাত্রা থেকে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে রেইনবো নেশনের কথা বলেছেন, তাতে সকল ধর্মের মানুষের সম-অধিকার ও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার আমাদের দাবি। 

“বাংলাদেশি হিসেবে মৌলিক অধিকারগুলো যেন লঙ্ঘিত না হয়। সনাতনীরা যেন শান্তিতে নিরাপদে থাকতে পারে। তাদের চাকরিসহ অন্যান্য অধিকার যেন বাংলাদেশি হিসেবে পায়।”

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ‘সনাতনী অধিকার আন্দোলন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি’র নেতাকর্মীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘১৯৪৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে হিন্দুরা দেশান্তরিত হচ্ছে কেন, রাষ্ট্র জবাব চাই’, ‘ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে যেন বিভেদ সৃষ্টি না হয়, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে’, ‘অধিকার ভিক্ষা নয়, সংবিধান সম্মত সমঅধিকার আমাদের দাবি’, ‘প্রাণের ৮ দফার বাস্তবায়ন চাই’সহ বিভিন্ন দাবির কথা লেখা ছিল। 

এছাড়া আরো দুয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে সনাতন ধর্মালম্বীদের উপর হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, ধর্ষণ, দেবালয় ভাঙচুর, দখল, অগ্নিসংযোগ এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। 

শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, উদ্বোধক হিসেবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর নাম বলা হয়েছিল। তবে তারা কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। 

শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজক সংগঠন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অতিথিরা বিকেলের অনুষ্ঠানে আসবেন।” 

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে ‘ধর্ম সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সকালে বেলুন উড়িয়ে আন্দরকিল্লা মোড় থেকে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা শুরু হয়। ঢাক ঢোল বাজিয়ে, বাঁশির সুরে নানা সাজে সজ্জিত ভক্তরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম করতে করতে র‌্যালিতে অংশ নেয়।