রেহমাতের ১৭৩, নিয়ামুরির ৫ উইকেট
ড্রয়ের পথে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের রান উৎসবের শারজাহ টেস্ট।
দিনের শুরুতেই সেঞ্চুরির সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিলেন রেহমাত শাহ। দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলে থামলেন তিনি। জিয়া-উর-রেহমানকে নিয়ে তার রেকর্ড গড়া জুটিতে প্রতিপক্ষের বিশাল সংগ্রহ পেরিয়ে লিড নিল আফগানিস্তান। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রেন্ডান টেইলরের ফিফটিতে ফের এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।
শারজাহ টেস্টে রোববার আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ৫১৪ রানে। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ১৬৪ রান করে চতুর্থ দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে। ১৫৪ রানে এগিয়ে আছে তারা।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরিতে তিনটি ছক্কা ও ১৪টি চারে ১৭৩ রানের ইনিংস খেলেন রেহমাত। এনিয়ে দ্বিতীয়বার দেড়শ ছুঁলেন আফগানিস্তান অধিনায়ক।
ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান টেইলর। কিন্তু এবার ৮২ রানে থেমে যান জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান। ৮৮ বলের ইনিংসে দুটি ছক্কা ও ১১টি চারে মারেন তিনি।
আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ব্রায়ান বেনেট ৪৯ রানে খেলছেন। ২০ রানে অপরাজিত আছেন অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভাইন।
রান উৎসবের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন নিউম্যান নিয়ামুরি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন জিম্বাবুয়ের এই পেসার।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে চার মেরে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন ৯৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করা রেহমাত। এক প্রান্তে রান বাড়াতে থাকেন তিনি। অন্যপ্রান্তে তাকে সঙ্গে দিয়ে যান জিয়া। প্রথম সেশনে আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যানের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
দ্বিতীয় সেশনের চতুর্থ ওভারে দেড়শ স্পর্শ করেন রেহমাত, ৩০৯ বলে।
১৫ রান করতে ৯৯ বল খেলা জিয়াকে কট বিহাইন্ড করে ৯২ রানের জুটি ভাঙেন ব্লেসিং মুজারাবানি। টেস্টে অষ্টম উইকেটে যা আফগানিস্তানের রেকর্ড। আগের সেরা ছিল আমির হামজা ও আফসার জাজাইয়ের ৫৪ রানের জুটি।
কয়েক ওভার পর গ্রায়াম ক্রিমারের বলে কিপার গ্লাভসে ধরা পড়েন রেহমাত। মোহাম্মাদ সালিমকে বোল্ড করে আফগানিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নিয়ামুরি।
১৪ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ রানে দুই ওপেনারকে হারায় জিম্বাবুয়ে। ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারান দুজনই বাঁহাতি স্পিনার জিয়ার শিকার।
এরপর ৮২ রানের জুটি গড়েন টেইলর ও বেনেট। প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রানের বন্ধন গড়েছিলেন তারা। সেঞ্চুরি থেকে ১৮ রান দূরে থাকতে টেইলর ড্রেসিং রুমে ফেরেন রান আউট হয়ে।
দিনের বাকি সময় নিরাপদে কাটিয়ে দেন বেনেট ও আরভাইন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (চতুর্থ দিন শেষে):
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৫০৪
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৬৯.৪ ওভারে ৫১৪ (আগের দিন ৪০২/৭) (রেহমাত ১৭৩, জিয়া ১৫, সালিম ৯, জিয়াউর ৭*; মুজারাবানি ৩৫-৯-৯৩-১, নিয়ামুরি ৩০.৪-৬-৮২-৫, মাধেভেরে ১৫-২-৩৮-০, ক্রিমার ৫৫-৫-১৭৭-৩, নাকভি ২৯-০-৯২-০, বেনেট ৫-০-১৮-০)
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ৪০ ওভারে ১৬৪/৩ (কাইয়া ১, কারান ১২, টেইলর ৮২, বেনেট ৪৯*, আরভাইন ২০*; জিয়াউর ৪-১-২০-০, জিয়া ২০-২-৬৫-২, সালিম ৭-১-২৮-০, কাইস ৪-০-২৫-০, শাহিদি ৫-০-২৬-০)
