০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

৪০ বছর বয়সি টেইলরের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে জিম্বাবুয়ে

সঙ্গে ব্রায়ান বেনেটের অপরাজিত পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাহ টেস্টের প্রথম দিনে সোয়া তিনশ রান করেছে সফরকারীরা।

৪০ বছর বয়সি টেইলরের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে জিম্বাবুয়ে

সেঞ্চুরির পর ব্রেন্ডান টেইলর। ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 08:28 PM

Updated : 05 Nov 2026, 08:27 PM

ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না দুই ওপেনার। পরে নিজেকে মেলে ধরলেন ব্রেন্ডান টেইলর। তার দীর্ঘ খরা কাটানো সেঞ্চুরি এবং ব্রায়ান বেনেটের অপরাজিত পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে শক্ত অবস্থানে জিম্বাবুয়ে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাহ টেস্টের প্রথম দিন শেষ জিম্বাবুয়ের রান ৫ উইকেটে ৩২৬। চারটি চারে ৭১ রান নিয়ে খেলছেন অধিনায়ক বেনেট। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে পাঁচটি চারে ২৯ রানে অপরাজিত আছেন ওয়েলসি মাধেভেরে।

দিনের সব আলো অবশ্য কেড়ে নিয়েছেন টেইলর। তিনে নেমে চারটি ছক্কা ও ১৪টি চারে চারে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

টেস্টে এটি টেইলরের সপ্তম সেঞ্চুরি। আট বছর পর এই সংস্করণে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন ৪০ বছর বয়সি ক্রিকেটার। ২০১৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। অবসর ও নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর, চার বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

২০২৫ সালের অগাস্টে অবসর ভেঙে ফেরার পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেন টেইলর, বোস্তওয়ানার বিপক্ষে। এবার শতক পেলেন টেস্টে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের প্রথম ঘণ্টার কঠিন চ্যালেঞ্জ পার করে দেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারান। কিন্তু পরে ইনিংস বড় করতে পারেননি তারা কেউ। পাঁচটি চারে ৩৪ রান করা কাইয়ার বিদায়ে ভাঙে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি।

সাবধানী ব্যাটিংয়ে রান বাড়ানো কারান জুটি গড়েন টেইলরের সঙ্গে। তাদের ৬৫ রানের বন্ধন ভাঙে মোহাম্মাদ সালিমের বলে কারান বোল্ড হলে। ১১৩ বল খেলে তিনটি চারে ৪২ রান করেন দুই ইংলিশ ক্রিকেটার স্যাম ও টম কারানের ভাই বেন।

এরপর টেইলর ও বেনেটের সৌজন্যে প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় যুগলবন্দি পায় জিম্বাবুয়ে। তাদের ব্যাটে আড়াইশ ছাড়িয়ে যায় আফ্রিকার দলটির রান।

৬৭ বলে ফিফটি করা টেইলর সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১৩৫ বলে। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে নিজের ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। মনে হচ্ছিল, অপরাজিত থেকে দিন পার করে দেবেন এই ক্রিকেটার।

টেইলর ও বেনেটের প্রতিরোধ ভাঙতে অনিয়মিত স্পিনার হাশমাতউল্লাহ শাহিদিকে আক্রমণে আনেন আফগানিস্তান। আর সেটাই কাজে লেগে যায়। শাহিদির অফ স্পিন ইনসাইড-আউট শটে এক্সটা কাভার দিয়ে ওড়ানোর চেষ্টায় ঠিকমতো খেলতে না পেরে লং অফে ধরা পড়েন টেইলর। ভাঙে ১৩৭ রানের জুটি।

এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট তুলে নেয় আফগানিস্তান। অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভাইনকে এলবিডব্লিউ করার পরপর অভিষিক্ত আন্তুম নাকভিকে কট বিহাইন্ড করে দেন জিয়া-উর-রেহমান।

পাইলট থেকে ক্রিকেটার হয়ে, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে আলোড়ন ফেলে দেওয়া নাকভির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা ভালো হলো না। এক চারে ৯ রান করেন তিনি।

২৫ রানে তিন উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন বেনেট ও মাধেভেরে। ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেছেন তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৮৭ ওভারে ৩২৬/৫ (কাইয়া ৩৪, কারান ৪২, টেইলর ১৩১, বেনেট ৭১*, আরভাইন ৪, নাকভি ৯, মাধেভেরে ২৯*; সালিম ১৬-৪-৪৪-১, জিয়াউর ১১.৪-৩-৪৫-০, জিয়া ২৯.২-৪-১১৩-২, কাইস ১৮-১-৮৩-১, শাহিদউল্লাহ ২-০-১১-০, শাহিদি ১০-২-২৪-১)