২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮ কার্তিক ১৪৩৩

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা

৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি আর চারটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসের পরও পেরে উঠল না ইংল্যান্ড।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Sep 2026, 02:02 AM

Updated : 25 Sep 2026, 04:06 AM

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন পড়ে ১৯ রান। পায়ে টানা লাগায় ৬৭ রান করে মাঠ ছেড়েছিলেন যিনি, সেই জস বাটলার ৪৮তম ওভারে ক্রিজে ফিরে তখন স্ট্রাইকে। দিলশান মাদুশাঙ্কার প্রথম বলটা ডিপ মিড-উইকেটের দিকে উড়িয়ে মারলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল বল অনায়াসেই সীমানা পেরিয়ে যাবে, কিন্তু মাঠের ওই দিকটা বেশ বড় হওয়ায় সীমানার ভেতরেই ক্যাচ লুফে নিলেন কামিন্দু মেন্ডিস। ইংল্যান্ডের আশাও প্রায় শেষ হয়ে গেল সেখানেই।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা।

হেডিংলিতে বৃহস্পতিবার কুসাল মেন্ডিসের সেঞ্চুরি ও কয়েকটি কার্যকর ইনিংসে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৩২১ রান।

জবাবে ১৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ও চারটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে শেষ ওভার পর্যন্ত আশা জিইয়ে রাখে ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আটকে যায় ৩০৫ রানে।

১৪ চার ও তিন ছক্কায় ১০০ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন লঙ্কান অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস।

সফরকারীদের হয়ে বল হাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন দুনিথ ওয়েলালাগে। ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে টম ব্যান্টন, বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুকের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যান্টন (৭৩) ও ডাকেটের (৬৭) পাশাপাশি ফিফটি করেন বাটলার (৬৯) ও উইল জ্যাকস (৫২)।

বড় রান তাড়ায় উড়ন্ত শুরু পায় ইংল্যান্ড। ব্যান্টন ও ডাকেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১০ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লেতে আসে ৮২ রান। ফিফটি ছোঁয়ার পর লেগ স্পিনার সাচিন্দু কলম্বাগের এক ওভারে দুটি ছক্কা মারেন ব্যান্টন।

তাদের জুটির সময় মনে হচ্ছিল সহজেই জিতে যাবে ইংল্যান্ড। তবে ওয়েলালাগে বোলিংয়ে আসার পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

প্রথম ওভারে তিনি দেন কেবল ২ রান। পরের টানা তিন ওভারে একে একে ডাকেট, ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুককে ফিরিয়ে দেন ২৩ বছর বয়সি স্পিনার।

সাতটি চার ও তিন ছক্কায় ৬২ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন ব্যান্টন। ৯ চারে ৬৩ বলে ৬৭ রান করেন ডাকেট।

এরপর বাটলারের পাল্টা আক্রমণে আবার চালকের আসনে বসে ইংল্যান্ড। প্রথমে জো রুটের সঙ্গে ২৮ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১৭ বলে ১৫ রান করে ফেরেন রুট।

৩৬ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান বাটলার। জ্যাকসের সঙ্গে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু ৩৮তম ওভারে তার হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে। ফিজিওর চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, আর দুটি বল খেলার পর তিনি খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন।

তখন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৫ বলে ৬৮ রান। কিন্তু এরপর ইনিংসের বাকি সময়ে তারা ৫ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে কেবল ৫২ রান। এই সময়ে চার ও ছক্কা মারতে পারে কেবল একটি করে। শেষ পর্যন্ত এটাই গড়ে দেয় পার্থক্য।

পুরনো হয়ে যাওয়া বল রিভার্স সুইং করছিল বেশ। সেটি কাজে লাগিয়ে দারুণ বোলিং করেন আসিথা ফার্নান্দো ও ইশান মালিঙ্গা।

এক প্রান্তে উইকেট হারালেও চেষ্টা করে যান জ্যাকস। বাটলার যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ক্রিজে ফিরলেন, ইংল্যান্ডের দরকার তখন ১৪ বলে ২৭ রান। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে জ্যাকসের ছক্কায় শেষ ২ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২০ রানের।

৪৯তম ওভারে স্রেফ এক রান নিয়ে জ্যাকসের উইকেট নেন মালিঙ্গা। বাটলার আর ২ রান যোগ করে শেষ ওভারে আউট হলে ম্যাচের ফলও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এ দিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিস উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৫ রান। বেশ ছন্দে খেলতে থাকা নিসাঙ্কাকে (৩৩ বলে ২৫) দশম ওভারে ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন অ্যাটকিনসন।

এরপর ক্রিজে যান কুসাল মেন্ডিস। কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে ১২০ বলে ১৩৭ রানের দারুণ জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক। যদিও এই জুটি ভাঙতে পারত শুরুতেই, যদি কুসাল মেন্ডিস ১৮ রানে থাকার সময় তার সহজ ক্যাচটি নিতে পারতেন অ্যাটকিনসন। সেই ক্যাচ হাতছাড়ার চড়া মাশুল দিতে হয় স্বাগতিকদের।

৬৫ বলে ৫৬ রান করা কামিন্দুকে ফিরিয়ে বড় জুটি ভাঙেন অ্যাটকিনসন। পরের ওভারে জেমি ওভারটনের বলে ৯৯ রানে থাকা কুসাল মেন্ডিসকে কট বিহাইন্ডের আবেদনে আউট দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি বল ব্যাটে না লাগায়। পরের বলেই চার মেরে সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৩১ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান।

৩২তম ওভারে শ্রীলঙ্কার দলীয় সংগ্রহ ২০০ স্পর্শ করে। তখন ৩৪০-এর কাছাকাছি স্কোরে দৃষ্টি থাকার কথা তাদের। কিন্তু মেন্ডিসের বিদায়ের পর রানের গতি কমে যায়।

চারিথ আসালাঙ্কা ভালো করতে পারেননি। পাভান রাত্নায়েকে (৩৯ বলে ৪৮) ও জানিথ লিয়ানাগের (২৬ বলে ৩২) নৈপুণ্যে তিনশ ছাড়াতে পারে শ্রীলঙ্কা, যে স্কোর বাঁচিয়ে রাখল তাদের সিরিজ জয়ের আশা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩২১/৬ (নিসাঙ্কা ২৫, কামিন্দু মেন্ডিস ৫৪, কুসাল মেন্ডিস ১২১, রাত্নায়েকে ৪৮, আসালাঙ্কা ১১, লিয়ানাগে ৩২, ওয়েলালাগে ১৬*, কলম্বাগে ৩*; আর্চার ১০-০-৬৮-১, অ্যাটকিনসন ১০-০-৫৫-২, টাং ৭-০-৫০-০, জ্যাকস ৫-০-৩৩-০, ওভারটন ১০-০-৬৩-২, রেহান ৮-০-৪৮-২)

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩০৫/৯ (ব্যান্টন ৭৩, ডাকেট ৬৭, রুট ১৫, ব্রুক ১, বাটলার ৬৯, জ্যাকস ৫২, রেহান ০, অ্যাটকিনসন ১৬, ওভারটন ২, আর্চার ০*, টাং ১*; আসিথা ১০-০-৬৮-১, মাদুশাঙ্কা ৯-০-৫৪-২, আসালাঙ্কা, ৬-০-২৯-০, মালিঙ্গা ৯-০-৫০-২, কলম্বাগে ৬-০-৫৫-১, ওয়েলালাগে ১০-০-৪৯-৩)

ফল: শ্রীলঙ্কা ১৬ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: কুসাল মেন্ডিস