নাঈম-মিমের সেঞ্চুরি, মেহেদির ৬ উইকেট
মাত্র ৩ রানের জন্য শতরানের স্বাদ পাননি মইন খান, দারুণ বোলিংয়ে হাসান মুরাদের শিকার ৪ উইকেট।
সিলেটের দুই মাঠের পাশাপাশি কক্সবাজারেও দাপট দেখালেন ব্যাটসম্যানরা। সেঞ্চুরি করলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মিম মোসাদ্দেক, অল্পের জন্য তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন না মইন খান। তবে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্পিনে ছড়ি ঘোরালেন শেখ মেহেদি হাসান। খুলনার অফ স্পিনারের ঘূর্ণিতে অল্পেই গুটিয়ে গেল রাজশাহী।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরুর দিনে স্পিনের জাল বিছিয়ে মেহেদির শিকার ৬ উইকেট। সিলেটের বিপক্ষে ঢাকার হয়ে ১৩১ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠে ছাড়েন নাঈম শেখ। ক্যারিয়ার সেরা ১৫৭ রানের ইনিংস খেলেন রংপুরের মিম।
নাঈম শেখের সেঞ্চুরি
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চমৎকার ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া পেয়েছেন নাঈম। তিন অঙ্কের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি তরুণ ওপেনার জিসান আলম। ৮০ রানে অপরাজিত আছেন মার্শাল আইয়ুব।
তিন জনের ব্যাটে সিলেটের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ঢাকার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৩৪৩ রান।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ১৫৫ রান যোগ করেন নাঈম ও জিসান। লাঞ্চ বিরতির পর জিসানকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ।
১১ চার ও ২ ছক্কায় ১৩২ বলে ৮১ রান করেন জিসান। পরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আশিকুর রহমান (৩০ বলে ১০)।
মার্শালকে নিয়ে নতুন করে জুটি বাঁধেন নাঈম। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬৬ বলে তিনি পূর্ণ করেন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক বাকি থাকতে পেশির টানে মাঠ ছেড়ে যান বাঁহাতি ওপেনার। তখন তার নামের পাশে ২১৫ বলে ১৩১ রান। তিনি উঠে যাওয়ায় ছেদ পড়ে ৮৭ রানের জুটিতে।
বাকি সময় আর উইকেট পড়তে দেননি মার্শাল ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাদের সংগ্রহ ৬৯ রান। মাহিদুল ৩২ রানে নতুন দিন শুরু করবেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
ঢাকা ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৪৩/২ (নাঈম ১৩১ আহত অবসর, জিসান ৮১, আশিকুর ১০, মার্শাল ৮০*, মাহিদুল ৩২*; ইকবাল ১৭-২-৭১-০, তোফায়েল ১৩-৩-৪৫-০, নাসুম ২৮-৩-১১৪-২, অনিক ৬-০-৩৫-০, নাঈম ২৪-৪-৬২-০, গালিব ২-০-৯-০)
মিম মোসাদ্দেকের ক্যারিয়ার সেরা ১৫৭
সিলেটের একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে রংপুর। প্রথম দিনের নির্ধারিত ৯০ ওভারে ৬ উইকেটে তারা করে ফেলেছে ৩৭০ রান।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে অনিক সরকারের উইকেট হারায় রংপুর। তবে দ্বিতীয় উইকেটে চাপ সামলে নেন মিম ও ইকবাল হোসেন। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ২০৮ রানের জুটি।
চা বিরতির ঠিক আগে ইকবালকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ময়মনসিংহের খণ্ডকালীন স্পিনার আল আমিন জুনিয়র। ১১ চারে ইকবাল করেন ১৪৭ বলে ৭৮ রান।
ইকবাল আউট হওয়ার আগে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিম। পরে শেষ সেশনে আবদুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে তিনি যোগ করেন আরও ৫৬ রান।
শেষ পর্যন্ত আজিজুল হাকিম রনির বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন মিম। তার ব্যাট থেকে আসে ২১২ বলে ১৫৭ রান, চার মারেন ২৩টি।
দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর মামুনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৮৮ বলে ৬১ রান করে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আকবরের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
রংপুর ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৭০/৬ (অনিক ১৬, মিম ১৫৭, ইকবাল ৭৮, মামুন ৬১, আকবর ৩০, রিজওয়ান ০*, নবিন ১০, আলাউদ্দিন ১*; গালিব ১৪-০-৬৭-২, আবু হায়দার ৭-০-৩৭-০, রকিবুল ২৫-৪-৯৮-১, রিজান ৩-০-১৫-০, শুভাগত ১৫-২-৬২-০, আজিজুল ১৯-৫-৪১-২, আল আমিন ৭-০-৩৭-১)
মইনের ৩ রানের আক্ষেপ, মুরাদের ৪ উইকেট
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে স্রেফ ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি মইন খান। বাঁহাতি স্পিনে হাসান মুরাদ নেন ৪টি উইকেট।
প্রথম দিন শেষে বরিশালের চেয়ে ২১০ রানে পিছিয়ে মুরাদের চট্টগ্রাম। প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে গুটিয়ে গেছে বরিশাল। জবাবে উইকেট না হারিয়ে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৭২ রান।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বরিশালের শুরু তেমন ভালো হয়নি। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৮২ বলে ৬৩ রান করেন জাওয়াদ আবরার। ৮ চার ও ২ ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস।
১২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর প্রতিরোধ গড়েন মইন ও হাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ উইকেটে তারা যোগ করেন ৯৯ রান। ৪৪ রান করা হাফিজুরকে বোল্ড করেন মুরাদ।
এরপর একাই দলকে টানেন মইন। মুরাদের বলে ছক্কা মেরে ৯১ থেকে তিনি পৌঁছে যান ৯৭ রানে। পরের বল আবারও বড় শট খেলার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যান অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। ১১৩ বলের ইনিংসে ১১ চারের সঙ্গে তিনি মারেন ২টি ছক্কা।
পরে দিনের বাকি ১২ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ৪১ বলে ২৯ রানে অপরাজিত জয়, সাদিকুর খেলছেন ৩৩ বলে ৪১ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
বরিশাল ১ম ইনিংস: ৬৯.৪ ওভারে ২৮২ (জাওয়াদ ৬৩, ইফতেখার ২, রাফসান ১৮, সালমান ৪, সিফাত ৩৫, হাফিজুর ৩৫, হাফিজুর ৪৪, মইন ৯৭, রুয়েল ১১, মোজাম্মেল ৪, অভি ০*; রুবেল ২১-২-৫৩-২, এনামুল ৯-০-৪০-১, শরিফ ৯-১-৪৯-২, আশরাফুল ১৩-৩-৫৩-১, মুরাদ ১৭.৪-২-৮৫-৪)
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১২ ওভারে ৭২/০ (জয় ২৯*, সাদিকুর ৪১*; রুয়েল ৪-০-২২-০, মইন ৩-০-২০-০, অভি ৩-০-২০-, মোজাম্মেল ২-০-১০-০)
মেহেদির ৬ উইকেট, আজিজুলের ফিফটি
মিরপুরে শেখ মেহেদি হাসানের স্পিনের জবাব দিতে পারেনি রাজশাহী। প্রথম দিনে মাত্র ১১৯ রামে গুটিয়ে গেছে তারা। বিপরীতে ১ উইকেটে খুলনার সংগ্রহ ১০৮ রান।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সফর আলির তোপে পড়ে রাজশাহী। নিজের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম দুই বলে হাবিবুর রহমান ও নাঈম আহমেদকে ফিরিয়ে দেন খুলনার উদীয়মান পেসার।
পরে উইকেট শিকারের উৎসবে যোগ দেন মেহেদি। রাজশাহীর একের পর এক ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ৮ ওভারের মধ্যেই প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দশম ৫ উইকেট পূর্ণ করেন ৩২ ছুঁইছুঁই অফ স্পিনার।
রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন ওপেনার সাব্বির হোসেন। আর কেউ ২০ রানও করতে পারেননি।
পরে ব্যাট করতে নেমে অল্পেই এনামুল হকের উইকেট হারায় খুলনার। বাকি সময় আর বিপদ ঘটতে দেননি আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকি। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬৪ রান যোগ করেন দিন পার করেন তারা।
৪ চার ও ১ ছক্কায় ৯৯ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত আজিজুল। কালামের সংগ্রহ ৬৫ বলে ২৮ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ৩৩.৫ ওভারে ১১৯ (হাবিবুর ০, সাব্বির হোসেন ৩৬, নাঈম ০, প্রিতম ১৫, সাব্বির রহমান ১৭, মেহেরব ২১, শাকির ২, সানজামুল ১৩, নিহাদ ০, আলি ৬, শফিকুল ৭*; সফর ৭-১-৪১-৩, হালিম ৬-০-২৮-০, মেহেদি ১৪-৪-৩৮-৬, পারভেজ ৪-০-৫-০, সামিউন ২.৫-০-৭-১)
খুলনা ১ম ইনিংস: ৩৩.১ ওভারে ১০৮/১ (এনামুল ২২, আজিজুল ৫৫*, কালাম ২৮*; শফিকুল ৭-১-২৬-০, আলি ৮-১-৩০-০, সানজামুল ১২-০-৩২-১, মেহেরব ৪.১-১-১৩-০, নিহাদ ২-০-৬-০)
