আর্জেন্টিনা সমর্থক বোলারের রোনালদোর মতো উদযাপন

পরের ম্যাচে আরও ভালো করে অনুশীলন করে যাবেন এই উদযাপন, বিপিএলে ম্যাচ জিতিয়ে বললেন চট্টগ্রামের পেসার।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 04:57 AM
Updated : 7 Feb 2024, 04:57 AM

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো উদযাপন করা নিয়ে কথা বলছিলেন শহিদুল ইসলাম। হাসতে হাসতে বলছিলেন, আরও অনুশীলন করতে হবে উদযাপনটা। মজাও করছিলেন বেশ। হুট করেই চেহারাটা কৃত্রিমভাবে শক্ত করে বললেন, “আমি কিন্তু ভাই আর্জেন্টিনা (সমর্থক)…।”

এমনিতে খুব একটা অভিব্যক্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত কখনোই ছিল না শহিদুলের। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন তিনি অনেক দিন ধরেই। বিপিএলও খেলেন নিয়মিতই। কখনোই খুব চটকদার বা জাঁকালো কিছু তেমন একটা করতে করা দেখা যায়নি। সেই তিনি একটু চমকে দিলেন বিপিএলে মঙ্গলবারের ম্যাচে। তামিম ইকবালকে আউট করে উদযাপন করলেন রোনালদোর মতো করে।

রোনালদোর ‘Siuuuu…’ উদযাপন তো তার নিজের বা ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে বহু আগেই। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে আইকনিক উদযাপনও বলা যায় এটিকে। বিপিএলে সেটিকে নিয়ে এলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের এই পেসার।

ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে এই ম্যাচে চট্টগ্রামের জয়ের পথে বাধা হয়ে ছিলেন তামিম। খুব একটা স্বচ্ছন্দে বা গতিময়তায় অবশ্য খেলতে পারছিলেন না তিনি। তবে একটা প্রান্ত আগলে ছিলেন অভিজ্ঞ ওপেনার। তার উইকেট শিকারের লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রামের।

শহিদুল যখন পঞ্চদশ ওভারে আক্রমণে আসেন, ৬ ওভারে তখন বরিশালের প্রয়োজন ৫৬ রান। ওই ওভারেই তামিমকে ফেরান এই পেসার। ওভারে রান দেননি একটিও। তামিমের উইকেট নেওয়ার পরই তাকে দেখা যায় রোনালদোর উদযাপনে।

পরে আরও দুটি উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হন তিনিই। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনেই বললেন এই উদযাপন বেছে নেওয়ার কারণ।

“একটু চেষ্টা ছিল যে রোনালদোর…রোনালদোকে আমার ভালো লাগে। মেসিকেও ভালো লাগে.. তবে রোনালদোকে ভালো লাগে তার কঠোর পরিশ্রমের জন্য। চেষ্টা করেছি ওরকম উদযাপন করার। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যে, ভালোভাবে হয়নি। আরেকটু উন্নত করতে হবে এটা। প্র্যাকটিস করব (হাসি)…। ”

মেসিকে ভালো লাগলেও ম্যাচে মেসি যেভাবে উদযাপন করেন, তা মনে নেই বলে জানালেন শহিদুল। এর ফাঁকে বলে রাখলেন যে তিনি আর্জেন্টিনা সমর্থক।

পরে টুর্নামেন্টের সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান টি স্পোর্টসে কথোপকথনে তিনি উদযাপনটা আবার করে দেখানোর পাশাপাশি বললেন পেছনের ভাবনা।

“আগের তিন ম্যাচে উইকেট পাইনি। এই ম্যাচে তাই পরিকল্পনা ছিল যে যদি উইকেট পাই, সিআর সেভেনের উদযাপনটা করব। দু-একবার পরিকল্পনা ছিল যে, একটু অনুশীলন করে নেই। পরে চিন্তা করলাম যে, আসবে। ম্যাচে দেখিন, আসে না। আরেকটু অনুশীলন করতে হবে।”

৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে এ দিন তিন উইকেট নেন শহিদুল। শেষের ওভারগুলোয় তার বোলিং ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আগেও তিনি কার্যকর বোলিং করেছেন শেষের ওভারগুলোয়। তার সাফল্যের রেসিপিও শোনালেন তিনি।

 “ওই সময় আমার বেসিক ব্যাপার থাকে যে, আমি যেটা ভালো পারি, সেটাতেই থাকব। সাধারণ একটা পরিকল্পনায় থাকি। সবচেয়ে বড় ব্যাপারটার হচ্ছে, নিজে শান্ত থাকা। যতটা সম্ভব, মাথা ঠাণ্ডা রেখে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তাহলে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি থাকে।”