৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

টেন্ডলকার-কোহলির মধ্যে ‘প্রতিবারই’ টেন্ডুলকারকে বেছে নেবেন অশ্বিন

ভিরাট কোহলি যদি সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করতে পারেন, তাহলে তাকে সাচিন টেন্ডুলকারের সমপর্যায়ের ব্যাটসম্যান হিসেবে মেনে নেবেন ভারতের স্পিন গ্রেট রাভিচান্দ্রান অশ্বিন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 01:07 PM

Updated : 30 Sep 2026, 01:07 PM

সাচিন টেন্ডুলকার নাকি ভিরাট কোহলি? বিতর্ক চলমান। যদিও দুই প্রজন্মের দুই কিংবদন্তির তুলনা করাকে ক্ষতিকর বলেই করে রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। তবে একজনকে বেছে নিতে বললে, ভারতের এই স্পিনার গ্রেট সবসময়ই বেছে নেবেন টেন্ডুলকারকে। দুই সময়ের নানা বাস্তবতা তুলে ধরেই নিজের পছন্দের কারণ ব্যাখ্যা করলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করা একমাত্র ক্রিকেটার টেন্ডুলকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রায় ১৩ বছর আগে। অসংখ্য রেকর্ড, অর্জন, মাইলফলক মিলিয়ে তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। অনেকের চোখে তিনিই সেরা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে কোহলিকে সর্বকালের সেরা মনে করা লোকের অভাবও নেই। তিনিও ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন। এখন কেবল এই একটি সংস্করণই খেলছেন। কিন্তু সেখানেও অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন। সবশেষ ১৭ ওয়ানডেতে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন ৫টি, ফিফটি ৬টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি সিরিজটি শুরু করেছেন গত রোববার ৮৮ বলে ১৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে। ছক্কা মেরেছেন ৯টি, তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে যা এক ম্যাচে সর্বোচ্চ।

তার এমন পারফরম্যান্সে টেন্ডুলকারের সঙ্গে সেই তুলনার পুরোনো প্রসঙ্গ উঠে আসছে এবার। তবে এই তুলনাতেই যেতে চান না অশ্বিন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনায় তিনি বললেন, তার কাছে টেন্ডুলকার সবসময়ই এগিয়ে।

“সাচিন টেন্ডুলকার এবং ভিরাট কোহলির মধ্যে কখনোই কোনো তুলনা হওয়া উচিত নয় এবং ঝুঁকি নিয়ে হলেও আমি প্রতিবারই বলব, ‘সাচিন টেন্ডুলকার।’ দুটি কারণে। প্রথমত, আমি তার একজন বড় ভক্ত। আর দ্বিতীয়ত, দেখুন তিনি কী ধরনের ইনিংস খেলেছেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের আশা।”

কোহলিকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে আপত্তি নেই অশ্বিনের। তবে দুই সময়ের বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিকতা তুলে ধরেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন ব্যবধান।

“এটা ভিরাট কোহলির দোষ নয়। তিনি যদি যেকোনো প্রজন্মে তিন নম্বরে ব্যাট করতেন, নিঃসন্দেহে একজন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় হতেন। এটা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু নিয়মগুলো দেখুন... কালকেও (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে) ৩৪ ওভারের পর তাদের এক বলে খেলা উচিত ছিল। দিনের আলোতে বল একদম পুরনো হয়ে গিয়েছিল। সাচিন টেন্ডুলকার দিনের বেলায় ৫০ ওভারের ক্রিকেট অনেক খেলেছেন।

এখন তো দিনের আলোয় ওয়ানডে হয়ই না। বৃত্তের ভেতরে পাঁচজন ফিল্ডার থাকে। দুটো নতুন বল। এগুলো বিশাল ব্যাপার, অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আর দুই প্রজন্মের মানুষের মধ্যে তুলনা করাটা আমার কাছে ক্ষতিকর মনে হয়।”

কোহলিকে টেন্ডুলকারের সমান্তরালের একটি মানদণ্ডের কথা অবশ্য বললেন অশ্বিন—১০০ সেঞ্চুরি!

একসময় যদিও মনে করা হয়েছিল, অনায়াসেই মাইলফলকটিতে পৌঁছবেন কোহলি, তবে পরে বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। বিশেষ করে, টেস্ট ক্রিকেট থেকে তার আচমকা বিদায়ের পরই সেঞ্চুরির সেঞ্চুরির সম্ভাবনা কমে যায় অনেকটা। তবে ওয়ানডেতে কোহলির অসাধারণ ফর্মের কারণে আবার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও জেগে উঠেছে।

কোহলি সম্প্রতি বলেছেন, ২০২৭ বিশ্বকাপ জিতে মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে চান তিনি। বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত খেললে এই এক বছরে ৩০-৩২টি ওয়ানডে খেলতে পারবেন তিনি। ১৪টি সেঞ্চুরি কি সম্ভব?

পারফরম্যান্স বিবেচনায় সেটি অসম্ভব মনে করছেন না অশ্বিন। পাশাপাশি জানিয়ে রাখলেন, সত্যিই তা করতে পারলে কোহলিকে তিনি কুর্নিশ জানাবেন।

“একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমি সত্যিই চাই সে তখন (২০২৭ বিশ্বকাপ) অবসর নিক, কারণ সে প্রতিজ্ঞা করেছে যে, এটাই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। এমন শীর্ষ পর্যায়ের ফিটনেস এবং ব্যাটিং ধরে রাখতে প্রচুর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় এবং আমি নিশ্চি, পর্দার আড়ালে সেই পরিশ্রম সে চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর সে আর এটা করতে চায় না।

এই সবকিছু মাথায় রাখলে, যৌক্তিকভাবেই সে এটা করতে পারেন – ১০০টি সেঞ্চুরি করা – এবং যদি সে যদি তা করতে পারে, আমি তাকে স্যালুট জানাব। এটি একটি অসাধারণ কৃতিত্ব হবে। করতে পারলে অসাধারণ হবে। যদি সে তা করতে পারে, আমি বলব নিঃসন্দেহে সাচিন আর সে একই পর্যায়ের।”