নতুন বলে শরিফুলের সুইংয়ের বিষ

স্কিলের পসরা মেলে ধরে সিলেট স্ট্রাইকার্সের টপ অর্ডার এলোমেলো করে দেন দুর্দান্ত ঢাকার বাঁহাতি পেসার।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 10:20 AM
Updated : 2 Feb 2024, 10:20 AM

শামসুর রহমানের শটটি ছিল খুবই দৃষ্টিকটূ। প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে অমন স্লগ করতে গেলেন কেন, অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান নিজেই বলতে পারবেন। তবে শরিফুল ইসলামকেও কৃতিত্ব দিতে হবে সবটুকু। অসাধারণ এক ডেলিভারি যে বের হলো তার হাত থেকে! যে লেংথে পিচ করে বলটি যেভাবে ভেতরে ঢুকল ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য, জায়গায় দাঁড়িয়ে ডিফেন্স করতে গেলেও শামসুরের জন্য হতো বড় পরীক্ষা।

নতুন কিছু অবশ্য নয়। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য বল যে ভেতরে আনতে শিখেছেন, গত কয়েক মাসে তা বারবারই দেখিয়েছেন শরিফুল। আন্তর্জাতিক আঙিনাতেও ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন এই ডেলিভারিতে। সিলেটে শুক্রবার সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে জানান দিলেন, সময়ের সঙ্গে এই ডেলিভারি আরও পোক্ত হচ্ছে তার।

শুধু শামসুরকে আউট করা ডেলিভারিই নয়, নতুন বলে এ দিন দুর্দান্ত সুইং বোলিংয়ের প্রদর্শনী মেলে ধরেন শরিফুল। সিলেটের টপ অর্ডার এলোমেলো করে দিয়ে শুরুতে শিকার করেন তিন উইকেট। পরে শেষের দিকে ফিরে দেখা পান আরও এক উইকেটে।

৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট, তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। ৯৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে আগে ৪ উইকেটের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি একবারই। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার বিপক্ষে নিয়েছিলেন ৩৪ রানে ৪ উইকেট।

তার নতুন বলের বোলিংই এই ম্যাচের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে নজরকাড়ার মতো ব্যাপার। এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করেছেন। তবে সেটি ছিল ইনিংসের শেষ ওভারে। সেদিন তার নতুন বলের বোলিং অবশ্যই ভালোই ছিল। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে রান দিয়েছিলেন কেবল ২৭। তবে পরের ম্যাচগুলোয় তাকে ছন্দে দেখা যায়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে ২ উইকেট নিলেও ওভারপ্রতি রান দেন ১২ করে। তৃতীয় ম্যাচে শেষ দিকে ১টি উইকেটের দেখা পান, রান দেন ওভারপ্রতি প্রায় ৯। সবশেষ ম্যাচে ২ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

যে ফর্ম নিয়ে আসর শুরু করেছিলেন তিনি, গত কয়েক মাসে তিন সংস্করণে জাতীয় দলে তার যে পারফরম্যান্স ছিল, তাতে তার কাছে দুর্দান্ত ঢাকার প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। বিশেষ করে, নতুন বলে উইকেট এনে দেওয়া বা কার্যকর বোলিং তিনি করতে পারছিলেন না। অবশেষে স্বরূপে আবির্ভুত হলেন সিলেটের বিপক্ষে এই ম্যাচে। 

প্রথম ওভারে শামসুরকে ওই ডেলিভারিতে বোল্ড করে শুরু। তার বলে গতি এমনিতে খুব বেশি নেই। তবে ওই বলটি পিচ করে ভেতরে ঢুকে যায় তীক্ষ্ণভাবে। পরের ওভারে ওই প্রান্তে আর বোলিং পাননি তিনি।

প্রান্ত বদলে তাকে আবার বোলিংয়ে আনা হয় চতুর্থ ওভারে। ধারাভাষ্যকক্ষে তখন কার্টলি অ্যামব্রোস প্রশ্ন করছিলেন, কেন তাকে প্রান্ত বদল করা হলো। একটু পর সেই অ্যামব্রোসই বললেন, ‘এই যে, উত্তর পেয়ে গেছি।’ কারণ, শরিফুল উইকেট নিয়েছেন আবারও।

সেটিতে অবশ্য ব্যাটসম্যানদের দায়ই বেশি। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের লেংথ বল পুল করার চেষ্টায় স্টাম্পে টেনে আনেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে পরের ডেলিভারি আবারও অসাধারণ। এই আসরে সিলেটের সেরা ব্যাটসম্যান জাকির হাসান কোনো জবাবই পাননি সেটির।

এমন লেংথে বল পিচ করে যে, জাকির বুঝে উঠতে পারেননি সামনে খেলবেন নাকি পেছনে। বল পিচ করে একটু দেরিতে সুইং করে ভেতরে ঢোকে বাঁহাতির জন্য (ডানহাতির জন্য বাইরে)। প্রথম বলেই বোল্ড জাকির।

হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে বেশি চেষ্টা করতে গিয়েই হয়তো ওয়াইড করে বসেন শরিফুল। তবে ২ ওভার শেষে তার বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ২-০-২-৩।

পাওয়ারে প্লতে আরেকটি ওভার করে উইকেট না পেলেও রান দেন ৬।

এরপর আবার বোলিংয়ে আসেন ১৯তম ওভারে। নো বল দিয়ে শুরু করেন ওভার। পরে আরিফুল হকের ব্যাটে হজম করেন টানা দুটি ছক্কা। তবে ওভারের শেষ বলে আরিফুলকে ফিরিয়ে শোধ তোলেন, পাশাপাশি ক্যারিয়ার সেরা বোলিংও হয়ে যায় তার।

শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনের ৪৬ বলে ৫৯ ও ৩ ছক্কায় আরিফুলের ৯ বলে ২১ রানের ক্যামিওতে সিলেট স্ট্রাইকার্স শেষ পর্যন্ত ১৪২ রান তুলতে পারে। তবে নতুন বলে শরিফুলের জ্বলে ওঠা নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত ঢাকার জন্য বড় স্বস্তির। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও।