Published : 02 Mar 2026, 02:52 PM
পাওয়ার প্লে শেষে পানি পানের বিরতির সঙ্কেত দিলেন আম্পায়ার। তখন হুট করে নিভে গেল ফ্লাডলাইট। শুরু হলো অন্য আলোর ঝলকানি। ক্রিকেটে বিরতির ছোট্ট সময়টায় চলল লেজারের খেলা। দর্শকেরা তাতে বিনোদনের খোরাক পেলেন বটে। তবে ক্রিকেটারদের কথাও তো ভাবতে হবে! এই লেজারের প্রদর্শনীতে ক্রিকেটারদের ক্ষতির দিকটি তুলে ধরলেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনিল গাভাস্কার ও সাবেক অলরাউন্ডার রাভি শাস্ত্রি।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের শেষ ম্যাচে রোববার দেখা যায় এই লেজার শো। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৫ রান তাড়ায় তখন দুই উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান ভারতের।
আম্পায়ার বিরতির সঙ্কেত দিতেই ইডেন গার্ডেন্সের সব ফ্লাইড লাইট নিভিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় নানা রঙের আলোর খেলা। মুঠোফোনের লাইট জ্বালিয়ে গ্যালারিকে আলোকিত করে তোলেন দর্শকরাও।
ওই মুহূর্তে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন গাভাস্কার। ম্যাচ চলাকালে এভাবে হুট করে আলো নিভিয়ে দেওয়ায় বিরক্তি ঝরল তার কণ্ঠে।
“পানি পানের বিরতির সময়ে আড়াই কিংবা তিন মিনিটের ওই লেজার শো ব্যাটারের জন্য তো নয়ই, কারও জন্যই ভালো ছিল না। চারপাশের সবকিছু অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর উজ্জ্বল আলোর সঙ্গে চোখের মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়।”
বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় এমন বিনোদনের কোনো প্রয়োজন আছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন গাভাস্কার।
“লেজার শো চলছে। এটা বিশ্বকাপ। আড়াই মিনিটের জন্য এই ধরনের বিনোদনের প্রয়োজন আছে কি?”
“আইপিএলের মাঝামাঝিতে এটা ঠিক আছে। নকআউট পর্বে নয়, টুর্নামেন্টের মাঝপথে হলে সমস্যা নেই। কিন্তু বিশ্বকাপে পানি পানের বিরতির সময় কি আমাদের লেজার শো-এর দরকার আছে?”
ভারতে সাবেক কোচ শাস্ত্রিও একই সুরে কথা বলেন।
“ক্রিকেটারদের দিক থেকে চিন্তা করলে, (অল্প আলো থেকে) উজ্জ্বল আলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। এটা গুরুতর ব্যাপার।”
রঙিন আলোকচ্ছটা অবশ্য মনোযোগে চিড় ধরাতে পারেনি ক্রিজে থাকা সাঞ্জু স্যামসন ও সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের। একাদশ ওভারে গিয়ে ভাঙে তাদের ৫৮ রানের জুটি।
সুরিয়াকুমার ফিরে গেলেও দলের জয় সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়েন স্যামসন। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে চারটি ছক্কা ও ১২ চারে ৯৭ রানের স্মরণীয় এক ইনিংস খেলেন তিনি। চার বল বাকি থাকতে পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নেয় ভারত।
মুম্বাইয়ে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে আগামী বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।