Published : 02 Mar 2026, 11:56 AM
১৯৫ রান করেও হেরে গেলে সাধারণত বোলারদের দিকেই আঙুল তোলার কথা। তবে শেই হোপ এতটাই বাজে ব্যাটিং করেছেন যে, প্রশ্ন উঠছে তাকে নিয়েই। নিজের ব্যর্থতা মেনে নিয়েই অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক বলছেন, শেষের দিকে রান হতে পারত আরেকটু বেশি।
কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া সুপার এইটের ম্যাচটিতে রোববার ওয়েস্ট ইন্ডিজ চমকে দেয় হোপের সঙ্গে রোস্টন চেইসকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইনিংস শুরু করলেন এই অলরাউন্ডার।
তবে চেইসের ব্যাটিং দেখে তা বোঝা যায়নি। বরং জাত ওপেনারের মতোই খেলতে থাকেন তিনি। প্রথম দিকে দলের রান বেড়েছে মূলত তার ব্যাটেই। হোপের ব্যাটিং ছিল অস্বস্তি ও জড়তাময়।
শেষ পর্যন্ত নবম ওভারে আউট হন তিনি ৩৩ বলে ৩২ রান করে। আরেক প্রান্তে চেইস ২৫ বলে ৪০ রান করলেও দলের রান খুব বেশি বাড়েনি হোপের কারণে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্রিজে যাওয়া ৬ ব্যাটারের ৫ জনেরই স্ট্রাইক রেট ১৫৫ থেকে ওপরে। সেখানে হোপের স্ট্রাইক রেট একশর নিচে।
রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডারের শেষের ঝড়ে ১৯৫ রান পর্যন্ত যেতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ম্যাচের মাঝবিরতিতে টিভি সাক্ষাৎকারে পাওয়েল বলেন, ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে ও ছোট সীমানার মাঠে রান অন্তত ১০-১৫ কম মনে হচ্ছে তার কাছে।
শেষ পর্যন্ত হয়েছে সেটিই। ম্যাচ শেষ ওভারে গড়ালেও ভারত জিতে যায় ৫ উইকেটে।
ম্যাচের পর ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে প্রশ্নে অকপটেই নিজের ঘাটতি মেনে নিলেন হোপ।
“হ্যাঁ, দায় আমি নিচ্ছি। আরও দ্রুতগতির ইনিংস খেলা উচিত ছিল আমার। তবে এরকম পরিস্থিতিতে, যখন কেউ খুব ধুঁকছে… সেদিক থেকে মনে হয় না খুব খারাপ ব্যাট করেছি। স্রেফ শটগুলো ফিল্ডার সোজা মারছিলাম।”
“মাঝেমধ্যে যেরকম হয়, কখনও কখনও বল মারলেও জায়গামতো যায় না। মাঠে নেমে প্রতিটি বলেই হিট করতে পারলে তো ভালোই লাগত। কিন্তু আজকে কোনোভাবেই হচ্ছিল না। ফিল্ডারের কাছে সরাসরি মেরেছি কিছু শট, সেটাও পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে আরও। এছাড়া সত্যি বলতে, ভারত বেশ ভালো বোলিংও করেছে।”
তবে নিজের ওই ব্যর্থতাতেই ম্যাচের সবকিছুর শেষ দেখছেন না হোপ। শেষ ৫ ওভারে যদিও ৭০ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবু অধিনায়কের মতে, শেষ দিকে আরও কিছু রান তাদের হতে পারত।
“আমরা বেশ ভালো ভিত পেয়েছিলাম। পাওয়ার প্লেতে আমি আরও মসৃণ গতিতে এগোতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। তবে তার পরও তো কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান ছিল আমাদের। এই দলের ব্যাটিং গভীরতা যতটা, শুরুটায় তাই খুব বড় সমস্যা দেখি না। অবশ্যই আরও বড় স্কোরের চেষ্টা করছিলাম। এসব মানদণ্ডই আমরা বেঁধে দিয়েছি দল হিসেবে।”