সৌম্যর এ কী হাল!

ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো সংস্করণেই ব্যাট হাতে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2023, 01:31 PM
Updated : 16 Jan 2023, 01:31 PM

এবারের বিপিএলে এখনও পর্যন্ত দুই দফায় বেশ নজর কাড়তে পেরেছেন সৌম্য সরকার। দুটি আম্পায়ারিং নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে। একবার তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত দেখে অবাক হয়ে মাঠের আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেন, পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলেও যায়। আরেক দফায় সোমবার, এবারও তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়ে মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে বেশ উত্তেজিত দেখা যায় তাকেও। কিন্তু নিজের কাজ আসল যেটি, সেই ব্যাটিংয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সোমবারের এই ম্যাচেই যেমন সৌম্য পেয়েছেন ‘গোল্ডেন ডাক।’ প্রথম বলে আউট হওয়া তার আগের কয়েক ম্যাচেরই ধারাবাহিক ক্রমাবনতিরই ধারা। এবারের বিপিএলে ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে প্রতি ম্যাচেই তার রান ক্রমে কমেছে, ১৬, ৬, ৪, ০।

শুধু বিপিএলেই নয়। দুঃসময়ের চক্রে আছেন তিনি দীর্ঘদিন ধরেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে নানা পর্যায়ে, বিভিন্ন সংস্করণে, নানা পজিশনে ব্যাট করেও তিনি না খুঁজে পাচ্ছেন ছন্দ, না করতে পারছেন রান।

বিপিএলের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের বড় দৈর্ঘ্যের সংস্করণে তিনি দুটি ম্যাচ খেলেছেন। একটিতে ৭১ রানের ইনিংস খেলতে পেরেছেন রাজশাহীতে। অনেক দিনের মধ্যে তার একটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস সেটি। আরেকটি ম্যাচে করেছেন ১৯।

ওই দুই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ৫০ ওভারের সংস্করণে ৩ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৯, ০, ও ১১। এবার জাতীয় লিগে একটি ম্যাচ খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন। তবে সেটি মূলত পারফরম্যান্সে, দুই ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে। ব্যাট হাতে আউট হন ৩৬ রানে।

অক্টোবর-নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ খেলে তার রান ১৪, ১৫, ০ ও ২০। মূল টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আউট হন ১ রানে। বিশ্বকাপের আগে ক্রাইস্টচার্চে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই ম্যাচে করেন ২৩ ও ৪।

গত অগাস্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তাকে পাঠানো হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। সেন্ট লুসিয়ায় একদিনের ম্যাচের সিরিজের বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচে ৩০ রানের অপরাজিত ছিলেন। বাকি দুটিতে আউট হন ৬ ও ১৫ রানে।

এ দৈনদশা শুধু রান সংখ্যায়ই নয়, তার ব্যাটিংয়ের ধরনেও। আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটার প্রমাণ সেই সৌম্যর ব্যাটিংয়ে। উইকেটে তার উপস্থিতির বেশির ভাগ সময় মনে হয় নড়বড়ে। ধারাবাহিক পারফর্মার তিনি তিনি ক্যারিয়ারের কখনোই ছিলেন না। কিন্তু সেরা সময়ে তার ব্যাটে ছিল দাপট আর আগ্রাসনে। বোলারদের অনেকেই বল হাতে ছুটে যেতেন ভয়-শঙ্কা নিয়ে। এখন সৌম্যকেই প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয় নড়বড়ে।

জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচরা, সবার সঙ্গেই তিনি কাজ করছেন। আশার কথা শোনাচ্ছেন। কিন্তু ২২ গজে তেমন কোনো প্রতিফলন পড়ছে না।

সিলেট স্ট্রাইকার্সের কাছে চট্টগ্রামে সোমবার হারার পর সংবাদ সম্মেলনে সৌম্যর ফর্ম নিয়ে ঢাকার অধিনায়ক নাসির হোসেন অসহায় কণ্ঠে কেবল আশার কথাই আরেকবার শোনাতে পারলেন।

“অনুপ্রেরণা বলতে… সবসময়ই তো দল থেকে সবাই সবাইকে সাপোর্ট করে। এই লেভেলে এসে কিছু বলার থাকে না। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনি এত বছর খেলছেন, এত লম্বা ক্যারিয়ার… আসলে সে-ই ভালো জানে কীভাবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াবে। আশা করি পরের ম্যাচ থেকেই নিজেকে ফিরে পাবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক