সতীর্থদের মানসিকতায় কষ্ট পেয়েছেন সিকান্দার রাজা
১০ ওভারে ৫ উইকেটে ৪৫ রান থেকে পরের ১০ ওভারে আফগানিস্তান তুলে ফেলে ১৭৬ রান, ক্ষুব্ধ জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ধুয়ে দিলেন সতীর্থদের।
পেশাদারিত্বের এই যুগে সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতেও সাধারণত অতি সতর্ক থাকেন ক্রিকেটাররা। কথা বলেন মেপে মেপে। সত্যিকারের অনুভূতির চেয়ে কূটনীতির ছোঁয়াই বেশি ফুটে ওঠে সেখানে। সেই কৃত্রিমতার বেড়াজাল এবার ছিড়ে ফেললেন সিকান্দার রাজা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ সূচনার পরও হেরে যাওয়ার পর সতীর্থদের ধুয়ে দিলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।
শারজাহতে বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল অসাধারণ। পাঁচ ওভারের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানিস্তান। পরে সেই স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৩৮। ১০ ওভার শেষে আফগানদের রান ছিল ৫ উইকেটে ৪৫। পরের ১০ ওভারে দেখা যায় অবিশ্বাস্য পাল্টা আক্রমণ।
টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের স্মরণীয় এক ঘুরে দাঁড়ানোর অধ্যায় রচনা করেন আজমাতউল্লাহ ওমারজাই ও ইজাজ আহমাদ আহমাদজাই। ১২ ছক্কায় ৫০ বলে ১১৬ রানের ইনিংস উপহার দেন ওমারজাই, ইজাজ করেন ২৭ বলে ৫২ রান। শেষ ১০ ওভারে আফগানরা তোলে ১৭৬ রান। শেষ ওভারে চার ছক্কায় রাশিদ খান করেন ৬ বলে ২৫ রান।
যে দলের জন্য একশ রানই ছিল দূরের পথ, সেই দল তুলে ফেলে ২২১ রান!
সেই রান তাড়ায় দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন রাজা। তবে জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি তা। ৯ ছক্কায় ৫৬ বলে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। জিম্বাবুয়ে হেরে যায় ১৯ রানে।
সতীর্থদের ওপর রাজার মূল ক্ষোভ দলের ফিল্ডিং ইনিংস নিয়েই। ম্যাচ শেষে কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি জানালেন, কঠিন বার্তা দেবেন দলকে।
“আমি ড্রেসিংরুমে এ বিষয়ে কথা বলব। এখানে আপনাদেরকে যেভাব বলছি, অবশ্যই সেভাবে বলব না...!” তার ঠোঁটে হাসির রেশ থাকলেও আদতে তা যে ছিল রাগের প্রকাশ, তা ফুটে উঠল পরের কথাগুলিতেই।
“(ম্যাচ নিয়ে) বিস্তারিত বলার আগে বলি - এবং ড্রেসিংরুমে এ বিষয়ে কথা বলব আমি - সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল দলের কয়েকজনের মধ্যে আমি যে আত্মতুষ্টি দেখেছি, তা মেনে নেওয়া।
“(৫ রানে ৪ উইকেট থেকে) দলের কেউ কেউ হয়তো ভেবেছিল যে, ২০ ওভার শেষে ওদের স্কোর সর্বোচ্চ ১৩০ বা ১৪০ হবে। আজ মাঠে যা দেখেছি, তার কিছু বিষয় আমাকে অবশ্যই কষ্ট দিয়েছে এবং ড্রেসিংরুমে এ নিয়ে কথা বলব।”
কোনো ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যাতেই সতীর্থদের এমন আচরণ মানতে রাজি নন রাজা।
“বলতে পারেন, ক্রিকেটে এমনটা হতেই পারে। কিন্তু আমার মনে হয়, এখানেই মানসিকভাবে খুব শক্তিশালী হতে হবে এবং বলতে হবে, ‘না, খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই শেষ নয় - আমাদের কাজ এখনও বাকি আছে এবং আমিই সেই ব্যক্তি হব, যে কাজটি সম্পন্ন করবে।’ এরকম কিছু আজকে দেখিনি।
“ব্যাটিং বা বোলিং নিয়ে কাটাছেঁড়া করার আগে, আমার মনে হয়, আজ মাঠে দাঁড়িয়ে আমি এই ব্যাপারটিই অনুভব করেছি এবং এর সমাধান করা প্রয়োজন। খেলাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি উল্টো ফল দিতে পারে এবং আজকের দিনটি এর একটি বড় উদাহরণ।”
রান তাড়ায় নিজে দারুণ লড়াই করলেও সেটিকে বড় করে দেখছেন না জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। আবারও বললেন তিনি ম্যাচের প্রথম ভাগের ব্যর্থতার কথা।
“২২২ রান তাড়ায় সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা, কারণ প্রথম ইনিংসে আমরা যেভাবে নিজেদের উপস্থাপন করেছি, তা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তাই যখন আমরা ব্যাট করতে নামি, আমার জন্য লক্ষ্য ছিল যেকোনো পরিস্থিতি থেকে ম্যাচটি জেতার চেষ্টা করা। এটাই আমাদের মূলমন্ত্র এবং আমার মাথায় শুধু হিসাব করছিলাম যে, কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে আমার কাজটি করতে পারি এবং আশা করি অন্য ব্যাটসম্যানরাও অবদান রাখবে, যাতে আমরা ম্যাচটি জিততে পারি।
‘এমনকি শেষ দুই ওভার পর্যন্ত (১২ বলে প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান) ম্যাচটি জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু হ্যাঁ, আমার মনে হয় আমরা নিজেদের জন্য খুব বেশি সুযোগ রেখে দিয়েছিলাম।"
