৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রিজওয়ানকে সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থার তলব

আগামী শুক্রবার তাকে এনসিসিআইএ-এর সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে।

রিজওয়ানকে সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থার তলব

মোহাম্মাদ রিজওয়ান। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 10:20 PM

Updated : 30 Sep 2026, 10:20 PM

মোবাইল ফোন ফেরত চেয়ে মোহাম্মাদ রিজওয়ানের পাঠানো চিঠির জবাবে তাকে আগামী শুক্রবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যানকে চলমান তদন্তে সহায়তা করতে বলেছে সংস্থাটি।

ক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, রিজওয়ানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (২০১৬)’ লঙ্ঘনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার পাঠানো একটি আইনি চিঠিতে রিজওয়ান কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানাতে অনুরোধ করেন। সেখানে জব্দ করা তার মোবাইলটি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধও করেন তিনি।

রিজওয়ানের ওই চিঠি পাঠানোর পর এনসিসিআইএ-এর পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা এলো। ক্রিকইনফোর খবর, নির্দেশ অনুযায়ী এনসিসিআইএ-এর সামনে হাজির হতে ইচ্ছুক রিজওয়ান। তবে এর আগে সংস্থাটিকে আবার চিঠি দিয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা প্রকাশের তাগিদ দেবেন তিনি।

এর আগে এনসিসিআইএ-এর বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন রিজওয়ান। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সেখানে যুক্তি দেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কোনো এখতিয়ার নেই এনসিসিআইএ-এর; আবেদন অনুযায়ী বিষয়টি ছিল ‘পাকিস্তান ক্রিকেটে কথিত অনলাইন বাজি বা জুয়া সংক্রান্ত।’

তার আবেদন খারিজের রায়ে লাহোর হাইকোর্ট তাকে সংস্থাটির তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি এনসিসিআইএ যেন তাকে হয়রানি না করে সে বিষয়েও নির্দেশনা ছিল রায়ে। এছাড়া, রিজওয়ানকে ফেরত না দেওয়া জিনিসপত্র, বিশেষ করে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এনসিসিআইএর কাছে পাঠানো চিঠিতে রিজওয়ান উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশ পালনে সংস্থাটি তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি। চিঠিতে সংস্থাটিকে তাদের তদন্তের মূল বিষয় লিখিতভাবে জানাতে এবং কখন তাকে সেখানে হাজির হতে হবে তা জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।

লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শেষের পরদিন গত ৩১ অগাস্ট রিজওয়ানের মোবাইল নিয়ে নেয় এনসিসিআইএ। রিজওয়ান চিঠিতে উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও, তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোনটি ফেরত দেওয়া হবে- এমনটা জেনে স্বেচ্ছায় এনসিসিআইএকে ফোনটি হস্তান্তর করেছিলেন তিনি। কিন্তু চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার মোবাইল এখনও এনসিসিআইএ রেখে দিয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর রিজওয়ান ও ইমাম উল হাকসহ সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তান। এরপর থেকেই ইমাম ও রিজওয়ানের বিরুদ্ধে এনসিসিআইএ-এর এই তদন্ত চলমান রয়েছে।