০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ওয়ার্নারের তোপের জবাব জানা নেই কামিন্সের

অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্সকে ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বললেন ডেভিড ওয়ার্নার, জবাব দেওয়ার উপযুক্ত ভাষা পেলেন না অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 09:42 AM

Updated : 01 Nov 2026, 09:42 AM

সমালোচনার ঝড় ধেয়ে আসতে শুরু করেছে। প্রথম তীব্র ঝাপটা এসেছে ডেভিড ওয়ার্নারের কাছ থেকে। এই অস্ট্রেলিয়া দলের বেশির ভাগের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ হারার পর সাবেক ওপেনার তুলাধনা করেছেন প্যাট কামিন্সের দলকে। সেই তীব্র সমালোচনার জবাব দেওয়ার উপযুক্ত ভাষা পাননি অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। তবে তিনি মেনে নিয়েছেন, সামনে কিছু পরিবর্তন জরুরি।

প্রথম টেস্টে দারুণ এক জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। পরের টেস্টের শুরুটাও খারাপ হয়নি। এরপরই বদলে যেতে থাকে চিত্র। বৃষ্টিতে প্রায় দুই দিন খেলা না হওয়ার পরও ম্যাচটি হেরে বসে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটি। এরপর তৃতীয় টেস্টে কেপ টাউনে শনিবার ১৭৬ রানের পরাজয়ে তারা হেরে যায় সিরিজ।

সবশেষ সাত টেস্টে কামিন্সদের এটি চতুর্থ হার। গত অগাস্টে দেশের মাঠে হেরে গিয়েছিল তারা বাংলাদেশের কাছেও। এবারের সিরিজ হারে ২০২৪ সালের মে মাসের পর প্রথমবারের মতো র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারিয়েছে দলটি, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক নম্বর থেকে নেমে গেছে তিনে।

সিরিজজুড়েই ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা দল কেপ টাউনের শেষ দিনে ধসে পড়েছে বাজেভাবে। কায়ো স্পোর্টসে ওয়ার্নার এই পারফরম্যান্সকে বলেন “ভয়াবহ’ এং ‘অস্ট্রেলিয়াসুলভ নয়।’ সাবেক ওপেনার বলেন, “লড়াইয়ের কোনো চেষ্টাই ছিল না, এটা লজ্জাজনক... আমি মতে এটা শোচনীয়...সিরিজজুড়েই ব্যাটসম্যানরা ডুবিয়েছে বোলারদের।”

ওয়ার্নারের সেই মন্তব্য নিয়ে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে কামিন্সের কাছে জানতে চাওয়া হলে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, “আমি নিজেও আসলে জানি না এ ব্যাপারে কী বলতে পারি...।”

দলের পরিবর্তনের ডাকও উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ফর্মহীনতায় থাকা মার্নাস লাবুশেনকে বাদ দেওয়া দাবি তো অনেক আগে থেকেই ছিল। তার সেঞ্চুরি খরা পৌঁছে গেছেন এখন ৩৯ ইনিংসে। ফিফটি নেই সবশেষ ১৬ ইনিংসে। তার মতো এতটা খারাপ অবস্থা না হলেও ব্যাটিং অর্ডারে ধারাবাহিক নন কেউই।

বোলিং আক্রমণ নিয়ে সমালোচনা খুব বেশি নেই। সর্বকালের সেরা বোলিং আক্রমণগুলোর একটি তাদের। তবে পরপর দুই টেস্টে ভালো শুরুর পরও তারা যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করতে হিমশিম খেয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হবেই।

কামিন্স যদিও এখনও নিজেদেরকে ভালো দল মনে করেন, তবে বাস্তবতা মেনে আভাস দিয়ে রাখলেন পরিবর্তনের।

“সিরিজ হারের পর সবসময়ই পরিবর্তনের কথা ওঠে এবং এটা সম্ভবত ন্যায্যও বটে, আমরা টানা দুটো ম্যাচ হেরেছি। এই প্রশ্নগুলো ওঠা ন্যায্য, আমরাও নিজেদের মধ্যে এই প্রশ্নগুলো করব।

“আমরা খুবই ভালো একটি দল। কিন্তু আমার মনে হয়, এক নম্বরে ফিরতে হলে আমাদের আরেকটু ভালো করতে হবে... তাই হয়তো খেলার ধরনে পরিবর্তন আসবে, বা কিছু ক্ষেত্রে ক্রিকেটার পরিবর্তন হতে পারে। আমাদের কয়েক সপ্তাহ সময় দিন এবং আমরা বিষয়টি ঠিক করে নেব।”

প্রশ্ন উঠছে টস জিতে কামিন্সের আগে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েও। টস হেরে ব্যাটিং পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ম্যাচের পরও তিনি বলেন, এই পিচে আগে ব্যাট করার সুযোগটা তাদের পক্ষে কাজ করেছে।

কামিন্স অবশ্য বললেন, অনেক দিক বিবেচনা করেই তারা আগে বোলিংয়ে নেমেছিলেন। তিনি বরং দায় দিলেন শেষ ইনিংসের ব্যাটিংকে। ২৮৮ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় স্রেফ ১১১ রানে। কিন্তু অধিনায়কের মতে, লক্ষ্যটা তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল।

“সবসময়ই বিভিন্ন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই পিচে আমরা জানতাম যে এখানে বড় রানের খেলা হবে। তবে আমাদের ধারণা ছিল, প্রথম দিনে পিচে যতটা সহায়তা ছিল, এর চেয়ে আরেকটু বেশি সহায়তা থাকবে। এর মানে এই নয় যে, টস জিতে আমরা প্রতিপক্ষকে ১০০ বা ২০০ রানে অলআউট করে দেব।”

“(কিছু) ভুল সিদ্ধান্ত ছিল (ব্যাটিংয়ে)। এটা পঞ্চম দিনের উইকেট, কিন্তু আমার মনে হয় না এটা খুব মারাত্মক কিছু ছিল। সেখানে রান করার সুযোগ ছিল, আরও অনেক বল বাকি ছিল। এমন কিছু সিদ্ধান্ত ছিল, যা ছেলেরা ফিরিয়ে নিতে চাইবে। আমাদের অবশ্যই আরও ভালো হয়ে উঠতে হবে, কয়েকবারই এরকম হলো। কিন্তু যখন আমরা ব্যাটিংয়ে নেমেছিলাম, তখন ভেবেছিলাম যে এই লক্ষ্য তাড়া করা খুবই সম্ভব।”

এই দলের অনেকেরই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকায় আর সিরিজ খেলা হবে না। আইসিসির পরবর্তী ভবিষ্যৎ সফর সূচি যদিও চূড়ান্ত হয়নি, তবে সহসাই আরেকটি সফরের কোনো সম্ভাবনাই নেই। সেই আক্ষেপ ফুটে উঠল কামিন্সের কণ্ঠে।

“সিরিজে ১-০তে এগিয়ে ছিলাম আমরা। দারুণ কিছু মুহূর্ত ছিল আমাদের, এমনকি এই টেস্ট ম্যাচের দুই-তিন দিনও। জানি না, ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে কী হবে। বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের অনেকেরই এখানে শেষ সুযোগ ছিল এটিই। এমন একটা সুযোগ, যেটির জন্য আমরা অনেকদিন ধরে কথা বলছিলাম। কিন্তু আমরা যথেষ্ট ভালো ছিলাম না।”