‘বড় দলকে হারানোর মজাই আলাদা’

তাইজুল ইসলাম বললেন, জয় দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করতে পারলে সামনের ম্যাচগুলোতেও ভালো করার বিশ্বাস পাবে দল। 

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদশাহাদাৎ আহমেদ সাহাদসিলেট থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Dec 2023, 02:12 PM
Updated : 1 Dec 2023, 02:12 PM

সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য থামতে হলো তাইজুল ইসলামকে। প্রশ্নোত্তর চলার মাঝেই তার আশপাশে জমে গেল ছোটখাটো এক ভিড়। কথা শেষ হওয়া মাত্রই তাদের ছবির আবদার মেটালেন তাইজুল। পরে হাঁটতে হাঁটতে হাতে থাকা এনার্জি ড্রিংকসের বোতল নিয়ে মজা করলেন এক পশলা। সেই হাসি মুখে নিয়েই ঢুকলেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। 

বরাবরই হাসিখুশি থাকা তাইজুলের শুক্রবারের এমন উচ্ছলতার কারণ স্পষ্ট। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয়ের দুয়ারে বাংলাদেশ। সম্ভাব্য সাফল্যের সামনে দাঁড়িয়ে বড় দলের বিপক্ষে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের তৃপ্তির কথা শোনালেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন শেষে স্বাগতিকদের দৃষ্টিসীমানায় যে জয়, এর বড় কারিগর তাইজুল। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয়বারেও এখন পর্যন্ত তার শিকার ৪ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেননি তিনি। এবার একই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তির পর সংবাদমাধ্যমে তার অনুভূতি-ভাবনা প্রকাশের আবেদনটাই ছিল বেশি। এবার হতাশ করেননি তিনি। নিজের বোলিং নিয়ে নানান আলোচনার ফাঁকে দলের অবস্থা নিয়েও কথা বলেন তাইজুল। 

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছর তাদেরই মাঠ থেকে টেস্ট জিতে ফিরেছে বাংলাদেশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোর বিপক্ষেও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সাফল্যের রয়েছে তাইজুলদের।

তাইজুলের মতে, এমন সব জয় যে কোনো দলকে সামনে এগোনোর আত্মবিশ্বাস দেয়।

“বড় দলকে হারানোর মজাই আলাদা। এখনও জিতিনি। তবে আমরা জেতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বা কালকেও করব। একটা বড় দলকে হারালে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস থেকে শুরু করে, একটা দল বদলে যাওয়ার আভাস থাকে।”

এই ম্যাচ দিয়েই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি জিতলে এর আত্মবিশ্বাস সামনের ম্যাচগুলোতেও কাজে লাগানোর আশা তাইজুলের।

“টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ এটা, আমরা চাই পুরো বছর (চক্র) যেন ওই আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারি। কয়টা ম্যাচ জিতব বা জিতব না জানি না, তবে বাংলাদেশকে যেন আমরা ভালো কিছু দিতে পারি।”

অথচ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ দলের পরিস্থিতি আদর্শ ছিল না। বিশ্বকাপে ভরাডুবি, দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিসিবির অসন্তোষ, কোচিং স্টাফে রদবদল, দল ঘিরে আশপাশের বেশ কিছু বিতর্কিত ঘটনা সঙ্গী করে এই ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। চোট-বিরতি মিলিয়ে সম্ভাব্য সেরা দলের অন্তত পাঁচজনকে ছাড়া ম্যাচটি খেলতে হচ্ছে তাদেরকে।

তবে মাঠে নামার পর তরুণ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে চনমনে এক দলের দেখাই মেলে। ফিল্ডিংয়ের সময় সবার সম্পৃক্ততা, ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা, ভালো কিছু করার তাগিদের ফলই পাচ্ছে দল। যার সমাপ্তি হতে পারে স্মরণীয় জয় দিয়ে। 

মাঠের পারফরম্যান্সে অন্য সব কিছু আড়াল হওয়ার পর, সিরিজ শুরুর আগে দলের অবস্থা কেমন ছিল, তা জানালেন তাইজুল।

“দলের (বিশ্বকাপের) আবহের কথা বলতে পারব না যেহেতু বিশ্বকাপে আমি ছিলাম না। আমি যখন এসেছি বা আমার যে সতীর্থরা, আমরা চেষ্টা করেছি এক হয়ে থাকার জন্য। সবার সঙ্গে যোগাযোগটা যেন ঠিক থাকে। সবাই যেন সবাইকে বোঝে। এটাই আর কী! আলহামদুলিল্লাহ, খারাপ না।”