২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ব্যাটিংকে দায় দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক

নিগার সুলতানার মতে, শ্রীলঙ্কার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকে ঠেকাতে অন্তত ১৪০ রান দরকার ছিল।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Feb 2023, 10:51 AM

Updated : 13 Feb 2023, 10:51 AM

শ্রীলঙ্কার কাছে আরও একটি হার। আরও একবার বিশ্বকাপ শুরু হারের হতাশা দিয়ে। আইসিসি উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারের চক্র থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারল না নতুন আসরের শুরুর ম্যাচেও। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা বললেন, ১৫ থেকে ২০ রানের ঘাটতি ছিল তাদের। 

কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে রোববার বাংলাদেশ টসজয়ী বাংলাদেশ ২০ ওভারে করতে পারে ১২৬ রান। সেই রান তাড়ায় শুরুতে বিপাকে পড়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তারা ৩ উইকেট হারায় ২৫ রানে। কিন্তু এরপর আর কোনো উইকেটই হারায়নি লঙ্কানরা। হার্শিথা সামারাবিক্রমা ও নিলাকশি ডি সিলভা ৭৯ বলে ১০৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে দেন ১০ বল বাকি থাকতেই। 

টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতেছিল ২০১২ ও ২০১৪ সালে। কিন্তু এরপর থেকে এটি টানা সপ্তম হার! 

অথচ এবার শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। শামিমা সুলতানা, সোবহানা মোস্তারিদের দারুণ ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ১০ বাউন্ডারিতে ৪৮ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ৬ ওভারের পর বাকি আর গোটা ইনিংসে আসেনি একটিও বাউন্ডারি। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ৭২। পরের ১০ ওভারে আসে ৫৪ রান। 

অধিনায়ক নিগারের মতে, ব্যাটারদের এই পথ হারানোতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। 

“প্রথমত আমার মনে হয়, ১৫-২০ রানের ঘাটতি ছিল আমাদের। এই ধরনের উইকেটে অন্তত ১৪০ রানের বেশি করতে পারলে দারুণ হতো। কারণ, তাদের ব্যাটিং বিভাগ অনেক শক্তিশালী। আমাদের শুরুটা ভালো ছিল, কিন্তু দশম ওভারের পর ভালো করতে পারিনি। ষষ্ঠ ওভারের পর বাউন্ডারি মারতে পারিনি আমরা। ওখানে আমাদের ঘাটতি ছিল এবং এটির মূল্যই দিতে হয়েছে আমাদের।” 

পরাজয়ের ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি ছিল সম্ভবত মারুফা আক্তারের বোলিং। কিছুদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলা এই পেসার মূল বিশ্বকাপে অভিষেকেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান। সুইং বোলিংয়ে দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে পাওয়ার প্লেতে তার বোলিং ফিগার ছিল ২-১-২-৩! 

বাংলাদেশক বরাবরই ভুগিয়ে আসছেন যিনি, সেই চামারি আতাপাত্তুকে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে থামিয়ে দেন মারুফা। নিজের পরের ওভারে তিনি উইকেট নেন টানা দুই বলে। 

কিন্তু সেই চাপ পরে ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের অন্য বোলাররা। মারুফাও পরের ২ ওভারে রান দেন ২১। 

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে নিগারের সঙ্গী ছিলেন মারুফাও। পুরো সংবাদ সম্মেলনে এই পেসারের দিকেই প্রশ্ন গেল বেশি। তিনি বললেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেই তার চোখ ছিল মূল বিশ্বকাপে। 

“ওখানে (অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে) আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছি। এমনভাবে খেলেছি যেন আপনাদের সঙ্গে (জাতীয় দলে) খেলার সুযোগ পাই।” 

“(টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে) অনেক ভালো লাগছিল।”