রিজনের রেকর্ডগড়া ৫ উইকেট, জয়ে শুরু বাংলাদেশের যুবাদের
রাকিবুল হাসান ও আহসান আল মুমিনের জুটির রেকর্ডের পর রুবাই ইসলাম রিজনের অনন্য বোলিং কীর্তিতে আফগানদের হারাল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
পরাজয়ের মুখ থেকে সোহাইল খান ও হামজা খানের জুটিতে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। শেষ দিকে আক্রমণে ফিরে তৃতীয় বলে সেই জুটি ভাঙলেন রুবাই ইসলাম রিজন। পরের পাঁচ বলে আরও দুই উইকেট নিয়ে নিশ্চিত করলেন দলের জয়। একইসঙ্গে গড়লেন রেকর্ডও।
ওমান ক্রিকেট একাডেমি মাঠে শনিবার আফগান যুবাদের ৩৩ রানে হারাল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। চার ম্যাচ সিরিজের প্রথম যুব ওয়ানডেতে ২৫১ রানের লক্ষ্যে ১০ বল বাকি থাকতে ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় আফগানরা।
বাংলাদেশের জয়ের মূল কারিগর রিজন। যুব ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচের শেষ দিকে জ্বলে ওঠেন তিনি। সব মিলিয়ে ৮.২ ওভারে তার শিকার ৩৭ রানে ৫ উইকেট।
যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এটিই প্রথম। অভিষেকে এত দিন সেরা বোলিং ছিল রিপন মন্ডলের। সিলেটে ২০২১ সালে আফগানদের বিপক্ষেই ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
রিজনের বোলিং নৈপুণ্যের আগে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয় রাকিবুল হাসান ও আহসান আল মুমিনের রেকর্ড জুটি। ষষ্ঠ উইকেটে দেশের রেকর্ড ১১৭ রানের জুটি গড়েন তারা। দুজনই খেলেন পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস।
পূর্ব নির্ধারিত সূচিতে সিরিজটি হওয়ার কথা ছিল পাঁচ ম্যাচের। তবে ভিসা জটিলতায় সময়মতো ওমানে যেতে পারেনি বাংলাদেশ দল। তাই চার দিন পিছিয়ে শনিবার শুরু হলো সিরিজ। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি ম্যাচ।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে আবদুল্লাহ আল মুহির উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন এসকে জারিফ ও আলআমিন হোসেন। রয়েসয়ে শুরুর পর ৪৬ বলে ২৬ রান করে ফেরেন আলআমিন।
কিছুদিন আগে জিডি ট্রফিতে নজর কাড়া জারিফ খেলেন ৫৩ বলে ৫০ রানের ইনিংস। রবিউল হাসান ও অধিনায়ক ফরিদ হাসান দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ২৭তম ওভারে স্কোরবোর্ডে ছিল ৫ উইকেটে ১১১ রান।
সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেন রাকিবুল ও আহসান। রানের চাকা সচল রেখে খেলতে থাকেন দুই ব্যাটসম্যান। ৬৬ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন আহসান, রাকিবুলের লাগে ৬৭ বল।
মাইলফলক ছুঁয়ে আর টিকতে পারেননি আহসান। চারটি চারে ৭০ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন তিনি। তবে বিদায়ের আগে রাকিবুলের সঙ্গে মিলে গড়েন ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৯ সালে ষষ্ঠ উইকেটে ১০০ রানের জুটি গড়েছিলেন সাব্বির রহমান ও মাহমুদুল হাসান। এত দিন সেটিই ছিল ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের একমাত্র শতরানের জুটি। প্রায় দেড় যুগ পর আহসান ও রাকিবুল লিখলেন নতুন রেকর্ড।
শেষ দুই ওভারে চারটি চারসহ স্কোরবোর্ডে ২২ রান যোগ করেন রাকিবুল। বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২৫০ রানে। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭৮ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন ছয় নম্বরে নামা রাকিবুল।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আফগানিস্তানকে তেমন বড় কোনো জুটি গড়তে দেয়নি বাংলাদেশ। ভালো শুরুর আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ১৫ ছুঁয়ে ৩০ রানের আগেই আউট হন প্রথম চার ব্যাটার।
পাঁচ নম্বরে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন হামজা খান। তাকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন হামজা খান ও তাহির সারওয়ারি। ১৬৮ রানে আফগানদের ষষ্ঠ উইকেট নিয়ে বড় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে বাংলাদেশ।
সপ্তম উইকেটে পাল্টা আক্রমণে চেষ্টা করেন হামজা খান ও অধিনায়ক সোহাইল খান। দুজনের জুটিতে ৪৫ বলে আসে ৪৩ রান। ৪৭তম ওভারে আক্রমণে ফিরে দুজনকেই আউট করে ম্যাচ বাংলাদেশের মুঠোয় নিয়ে আসেন রিজন।
পরে আর কোনো আশার আলো পায়নি আফগানিস্তান। ইমরানকে বোল্ড করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জয়ও নিশ্চিত করে দেন রিজন।
একই মাঠে সোমবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৫০ ওভারে ২৫০/৮ (মুহি ০, জারিফ ৫০, আলআমিন ২৬, রবিউল ১০, ফরিদ ১২, রকিবুল ৭৯*, মুমিন ৫৪, শাকিল ০, মেহেরাব ০, রুবাই ৩*; ইমরান ১০-১-৫৭-৩, নুর ৭-০-৩৫-০, সোহাইল ১০-০-৪৫-১, আমির ৯-০-৭১-০, লুতফুল্লাহ ১০-০-২৫-২, আবিদউল্লাহ ৪-১-১২-০)
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৮.২ ওভারে ২১৭ (আবিদউল্লাহ ১৫, ফরিদউল্লাহ ২৭, সুবহান ২৪, নোমান ২৫, হামজা ৫১, তাহির ১২, আমির ১৬, সোহাইল ২১ ইমরান ৬, লুতফুল্লাহ ০, নুর ০; আতিকুর ৮-০-৩২-২, রুবাই ৮.২-০-৩৭-৫, মেহেরাব ৩-০-১৭-০, শাকিল ১০-০-৫৬-১, রবিউল ৯-০-৩১-০, জারিফ ৮-০-২৭-১, রকিবুল ২-০-১৫-০)
ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৩৩ রানে জয়ী
সিরিজ: চার ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১-০তে এগিয়ে
